মসলিন: এক বিস্তৃত রূপকথা

প্রাচীন বাংলার সমৃদ্ধ ইতিহাস আর ঐতিহ্যে যে নামটি আভিজাত্য আর নিজস্ব মহিমা নিয়ে এখনও জ্বলজ্বল করছে, তা হলো মসলিন। ঢাকাই মসলিন। একসময়ে শুধু বাংলা বা মোঘল রাজদরবারই নয়; বরং পৃথিবীজুড়েই অতি সূক্ষ্ম, মিহি, মোলায়েম আর উজ্জ্বল এই বস্ত্র ছিল চাহিদার শীর্ষে। মসলিন বাংলাদেশের ঐতিহ্যিক বাহনের আরেক নাম।একদা ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত এসেছিলেন তৎকালীন বঙ্গদেশ ভ্রমণে। ফেরার সময় […]

Continue Reading

বাংলা সাহিত্যে মুসলিম সাহিত্যিকের আত্ম প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম

সে আজ থেকে বহুদিন আগের কথা, সপ্ততি বৎসরের কম নহে, আমি যে-কালে প্রথম বাংলা ভাষার চর্চা আরম্ভ করি, সে-কালে আমরা চারিজন ব্যতিত অন্য কোন মুসলমান লেখক ছিলেন না। সেই চারিজনের তিনজন কালের অতল সাগরে ডুবিয়া গিয়াছেন। মাত্র আমি একা এখনো জীবিত থাকিয়া কবরের প্রান্তে আসিয়া দাঁড়াইয়াছি। সে তিনজনের নাম শুনিতে বোধ হয় আপনারা আগ্রহ প্রকাশ […]

Continue Reading

পলাশী : একটি ঐতিহাসিক মূল্যায়ন

১৭৫৭ সালের জুন মাসে পলাশীর করুণতম ট্রাজেডির ফলাফল হিসেবে সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ও হত্যার মধ্য দিয়ে নবাব মীর জাফরের নেতৃত্বে একটি পুতুল সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। ক্লাইভের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানের শক্তিশালী ভিত্তি। মোঘল সাম্রাজ্যের অমিত শক্তির ক্রমাবনতি এবং সাম্রাজ্যব্যাপী আন্তসংহতির অভাব, ইউরোপীয় জাতিসমূহের মধ্যে বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যিক ও ঔপনিবেশিক বিরোধের অনিবার্য ফলাফল স্বরূপ পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে নতুন নতুন ভৌগোলিক […]

Continue Reading

উপমহাদেশে নারী ব্যক্তিত্ব ও তাদের সামাজিক জীবন

ইতিহাসের প্রারম্ভ থেকেই নারীরা সভ্যতা বিনির্মাণের মূর্ত প্রতীক। সৃষ্টির শুরু থেকে নারীদের মর্যাদা, অধিকার ও অবদানের পটভূমি স্পষ্ট। শিক্ষা-দীক্ষা থেকে শুরু করে পেশাদারিত্বে নারীদের পদচারণা ছিল প্রাণোচ্ছ্বল। নববী যুগ থেকেই নারীরা জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি পারিবারিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তবে ইতিহাসের কালক্রমে মুসলিম নারীদের সামাজিক জীবনে ভূমিকা সম্পর্কে আলোচনা কম হয়েছে। খাদিজা […]

Continue Reading

কাশিকারি : হাতে আঁকা সিরামিক শিল্পের অনন্য ঐতিহ্য

কাশিকারি একটি নান্দনিক হস্তশিল্প, যা মোজাইক শিল্পের সঙ্গে অত্যন্ত সাদৃশ্যপূর্ণ। ‘কাশি’ শব্দের অর্থ সিরামিক বা মাটির টাইলস, আর ‘কারি’ মানে কাজ। অর্থাৎ কাশিকারি হলো সিরামিকের উপর অলংকরণমূলক কাজ। এই শিল্পের শিকড় প্রোথিত রয়েছে প্রাচীন মেসোপটেমিয়া সভ্যতায় এবং আজও এটি ইসলামি স্থাপত্যের এক গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হিসেবে টিকে আছে।মধ্য এশিয়া থেকে পূর্ব এশিয়া পর্যন্ত সমগ্র ইসলামি বিশ্বে […]

Continue Reading

উপমহাদেশে ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থার ইতিহাস

পৃথিবীর যে কোন অংশে আল্লাহর সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করার প্রচেষ্টা চালানো প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব ও কর্তব্য। ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা থেকে শুরু করে সমষ্টিগতভাবে এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ইসলামের প্রচার ও প্রসার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ব্যক্তির পক্ষে এক বিশেষ দায়িত্ব ও কর্তব্য হিসেবে ইসলামে বিবেচিত হয়েছে। মহানবী (স.) বিদায় হজ্বে বলেছেন: “হে আমার উম্মতগণ, যারা এখানে সমবেত হয়েছ, তারা অনুপস্থিত […]

Continue Reading

আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মহিলা চ্যান্সেলর: বেগম সুলতান জাহান

বেগম সুলতান জাহান— নামটি ভারতীয় উপমহাদেশের নারী ইতিহাস, ইসলামী শিক্ষা এবং সমাজ সংস্কারের পাতায় এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো দীপ্ত। আজ থেকে প্রায় এক শতাব্দী পূর্বে, যখন নারীদের মতামত, শিক্ষাগ্রহণ বা সমাজে অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দেওয়া হতো না, তখনই ভোপালের রাজ্য শাসন করেছিলেন একের পর এক নারী শাসক। এই ধারার শেষ মহীয়সী ছিলেন বেগম সুলতান জাহান— যিনি […]

Continue Reading

উপমহাদেশের মুসলমানদের আবহমান উৎসব-অনুষ্ঠানসমূহ

বর্তমান সময়ে সারা বিশ্ব জুড়ে চলছে সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের বিপ্লব। একদিকে ইউরোপ তার অশ্লীলতা ছড়িয়ে দিচ্ছে, অন্যদিকে একদল তথাকথিত মুসলিমরা পরিকল্পিতভাবে মুসলিম সংস্কৃতিকে উপেক্ষা করছে, ধ্বংসের দিকে ধাবিত করছে। যেন মুসলিম সংস্কৃতি বিশ্ব প্রগতির জন্য বাধাস্বরূপ। কিন্তু কোনো জাতির রূহ হলো সেই জাতির সাংস্কৃতিক পরিচয়, সভ্যতার ও এর অবকাঠামোর অন্যতম মাপকাঠি। সংস্কৃতিকে বুঝতে গেলে এর মূলে […]

Continue Reading

মুঘল স্থাপত্য: বড় কাটরা

ভারতীয় উপমহাদেশে বৃটিশ শোষণ পরবর্তী সময়ে এসে ইসলামী সভ্যতার ৭০০ বছরের সমৃদ্ধ ইতিহাসের স্মৃতিচিহ্ন খুঁজতে গেলে আমাদের হতাশ হতে হয়। ২০০ বছর শোষণের ফলশ্রুতিতে ইসলামী সভ্যতার কোন চিহ্নই আমরা খুঁজে পাইনা। বাংলা অঞ্চলে ইসলামী সভ্যতার ঐতিহাসিক স্মৃতিচিহ্নের মধ্যে কেবল কিছু স্থাপত্য টিকে আছে। এর মধ্যে বড় কাটরা অন্যতম। মুঘল আমলে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপত্যকীর্তির মধ্যে বড় […]

Continue Reading

খেরুয়া মসজিদ

খেরুয়া মসজিদ বাংলাদেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। মসজিদটি সুলতানী যুগের শেষে, বাংলায় মোঘল শাসনের সূচনালগ্নে বারো ভূঁইয়া এবং বাংলায় অবস্থানরত আফগান প্রধানদের মোঘল বিরোধী বিদ্রোহ চলাকালীন সময়ে নির্মিত। মোঘল-পূর্ব সুলতানী আমলের স্থাপত্যশৈলীর সঙ্গে মোঘল স্থাপত্যশৈলীর সমন্বয়ে এই মসজিদটি নির্মিত হয়েছে।প্রায় ৪৩৫ বছর ধরে টিকে থাকা এই মসজিদটি বগুড়া শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দক্ষিণে শেরপুর উপজেলা […]

Continue Reading