ইসলামপূর্ব আরব সমাজে নারীর সামাজিক মর্যাদা ছিল অত্যন্ত নিম্ন। তৎকালীন প্রচলিত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মানদণ্ডে অনেক পুরুষ নারীকে লজ্জা ও অপমানের কারণ বলে মনে করত। কোনো পিতা কন্যাসন্তান জন্মগ্রহণের সংবাদ পেলে গভীর দুশ্চিন্তায় নিমজ্জিত হতেন। তাকে যেন এক নিষ্ঠুর সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হতে হতো: কন্যাসন্তানটিকে অপমান সহ্য করেও বাঁচিয়ে রাখবেন, নাকি জীবন্ত কবর দেবেন।
আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেছেন
তাদের কারও কাছে যখন কন্যাসন্তান জন্মের সুসংবাদ পৌঁছে, তখন তার মুখমণ্ডল কালো হয়ে যায় এবং সে অন্তরে গভীর বিষণ্ণতায় আচ্ছন্ন হয়। প্রাপ্ত সংবাদকে সে অশুভ মনে করে মানুষের কাছ থেকে আত্মগোপন করতে থাকে। তখন সে মনে মনে ভাবতে থাকে, অপমান সহ্য করে কি সন্তানটিকে বাঁচিয়ে রাখবে, নাকি তাকে মাটিতে জীবন্ত পুঁতে ফেলবে? জেনে রেখো, তাদের এ বিচার কতই না নিকৃষ্ট!¹
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর ওহি অবতীর্ণ হওয়ার পর তিনি মদিনায় হিজরতের পূর্ব পর্যন্ত মক্কায় অবস্থান করে পৌত্তলিক সমাজের মধ্যে তাওহিদের দাওয়াত প্রচার করেন এবং মানবিক সাম্য ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান। অথচ তিনি এমন এক সামাজিক পরিবেশে এই আহ্বান জানিয়েছিলেন, যেখানে গোত্র, পরিবার ও বংশপরিচয়ের ভিত্তিতে মানুষের সামাজিক মর্যাদা নির্ধারিত হতো।
পক্ষান্তরে আম্মার ইবনে ইয়াসির (রা.)-এর মাতা হযরত সুমাইয়্যা বিনতে খাইয়্যাত (রা.) ইসলামের ইতিহাসে প্রথম শহীদের মর্যাদা লাভ করেন।³
আবিসিনিয়ায় হিজরতের সময় মুসলিম নারীরাও মুসলিম পুরুষদের সঙ্গে হিজরত করেন।⁴ আনসার সম্প্রদায়ের দুই নারী আকাবায় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাতে বাইআত গ্রহণ করেন।⁵ আকাবার এই বাইআত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মদিনায় হিজরতের পথ উন্মুক্ত করে এবং এর মধ্য দিয়েই মাদানি যুগের সূচনা হয়। এই যুগেই প্রথম সুসংগঠিত মুসলিম সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি স্থাপিত হয়।
মাদানি সমাজ এক গভীর আইনগত ও সামাজিক পরিবর্তনের পথ উন্মোচন করে। ইসলাম নারীদের এমন সামাজিক মর্যাদা প্রদান করে, যা তৎকালীন আরব সমাজে ছিল প্রায় নজিরবিহীন। সামাজিক জীবনে তারা পুরুষদের পাশাপাশি মর্যাদাপূর্ণ অংশীদারিত্বের স্বীকৃতি লাভ করেন। আল্লাহর প্রতি দৃঢ় ঈমান ও আনুগত্যই মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতকারী কুরাইশদের ইসলামের এই নতুন সামাজিক ও আইনগত বিধান মেনে নেওয়ার শক্তি জুগিয়েছিল।
এই পরিবর্তন বাস্তবায়ন তুলনামূলকভাবে সহজ হওয়ার অন্যতম কারণ ছিল মদিনার আনসার নারীদের সামাজিক আচরণ। তারা নিজেদের স্বামীদের সঙ্গে খোলামেলাভাবে কথা বলতেন এবং নিজেদের মতামত স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে পারতেন। পরবর্তীকালে মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতকারী কুরাইশ নারীরাও ধীরে ধীরে একই ধরনের আচরণ করতে শুরু করেন।⁶
পরবর্তী আলোচনায় আমরা এমন কিছু দৃষ্টান্ত দেখব, যা বর্তমান সময়ে বিভিন্ন বিধানের তাৎপর্য অনুধাবনের ক্ষেত্রেও বিশেষভাবে উপযোগী। কারণ বর্তমান বিশ্বের অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি মদিনার তৎকালীন পরিস্থিতি থেকে মৌলিকভাবে ভিন্ন।
তবে দুঃখজনকভাবে কিছু মুসলিম দেশে এর বিপরীত চিত্রও দেখা যায়। সেখানে সামাজিক ও গোত্রীয় প্রথা থেকে উদ্ভূত নানা বিধিনিষেধকে শরিয়তের বিধান হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, যদিও প্রকৃতপক্ষে সেগুলোর সঙ্গে ইসলামী শরিয়তের কোনো সম্পর্ক নেই। আশঙ্কার বিষয় হলো, এ ধরনের পরিস্থিতি সহজেই এমন সামাজিক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিতে পারে, যা মানুষকে ইসলামের প্রকৃত মানদণ্ড, উদ্দেশ্য ও নীতিমালা থেকে আরও দূরে সরিয়ে দেয়।
বর্তমান বিশ্বে বিশ্বায়নের প্রভাব বিস্তারের বহু মাধ্যম রয়েছে। স্যাটেলাইট টেলিভিশন ও ইন্টারনেট তার অন্যতম। এই বহুমুখী প্রভাবের মুখে মুসলিম সমাজকে সুরক্ষা দিতে পারে ইসলামের যথাযথ উপলব্ধি ও সঠিক বাস্তবায়ন। মুসলিম বিশ্বের দীর্ঘ বুদ্ধিবৃত্তিক স্থবিরতার যুগে জন্ম নেওয়া বহু ধারণা পরিত্যাগ না করলে এবং ইসলামের সঠিক উপলব্ধি অর্জন না করলে শরিয়তের প্রকৃত বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
মদিনার সময়কালে ইসলামের বিস্তার ও মুসলিম সমাজ গঠনের কাজে পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের অংশগ্রহণে কোনো ধরনের সার্বিক বাধা বা প্রতিরোধ ছিল না। ইসলামে নিষিদ্ধ ছিল খালওয়াত, অর্থাৎ এমন একান্ত সাক্ষাৎ, যেখানে একজন পুরুষ ও একজন নারী লোকচক্ষুর আড়ালে এমন স্থানে অবস্থান করেন, যেখানে অন্য কারও প্রবেশ বা দৃষ্টির সুযোগ থাকে না।
রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, স্বামীর অনুপস্থিতিতে কোনো পুরুষের কোনো নারীর গৃহে একাকী প্রবেশ করা উচিত নয়। তিনি বলেছেন:
আজ থেকে কোনো পুরুষ যেন এমন নারীর গৃহে প্রবেশ না করে, যার স্বামী অনুপস্থিত, যতক্ষণ না তার সঙ্গে অন্য একজন বা দুজন সঙ্গী থাকে।⁷
অতএব দুইজন বা তার বেশি পুরুষ যখন কোনো নারীর খোঁজখবর নেওয়া কিংবা অন্য কোনো বৈধ প্রয়োজনে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান, তখন তা ইসলামী শিষ্টাচারের পরিপন্থী নয়। একই নীতি নারীদের মসজিদে যাতায়াত, শহরের বাইরে অনুষ্ঠিত ঈদের সালাতে অংশগ্রহণ এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর খুতবা শ্রবণের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য ছিল।
প্রকৃতপক্ষে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবদ্দশায় কিছু নারী অতিথিদের অভ্যর্থনা জানানোর জন্য নিজেদের ঘরের দরজা উন্মুক্ত রাখতেন এবং প্রায়ই দর্শনার্থীদের আতিথ্য দিতেন। এসব দর্শনার্থীর মধ্যে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাহাবিগণও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
ফাতেমা বিনতে কায়েস (রা.) স্বামীর কাছ থেকে চূড়ান্ত তালাকপ্রাপ্ত হওয়ার পর ইদ্দত কোথায় পালন করবেন, সে বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে পরামর্শ চান। প্রথমে উম্মু শারিক (রা.)-এর ঘরের কথা উঠলে রাসুলুল্লাহ (সা.) উল্লেখ করেন, তার ঘরে বহু অতিথি ও দর্শনার্থীর যাতায়াত রয়েছে।⁸
নারীরা নিজেদের প্রয়োজন পূরণের জন্য বাজারেও যেতেন। এমনকি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সহধর্মিণীগণও পর্দার বিশেষ বিধান নাজিল হওয়ার পর প্রয়োজনবশত বাইরে যেতেন। একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, হযরত উমর (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর স্ত্রী সাওদা (রা.)-কে বাইরে যেতে দেখে বিষয়টি লক্ষ করেন। পরে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন:
আল্লাহ তোমাদের প্রয়োজন পূরণের জন্য বাইরে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন।⁹
এই বিধান ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সহধর্মিণীদের ক্ষেত্রেও, যাদের জন্য পর্দার বিশেষ বিধান ছিল। সাধারণ মুসলিম নারীদের ক্ষেত্রে একই বিশেষ নির্দেশ প্রযোজ্য ছিল না।
মদিনার সমাজে নারীদের সামাজিক অংশগ্রহণের একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে আশ-শিফা বিনতে আবদুল্লাহ (রা.)-এর নাম উল্লেখ করা হয়। ঐতিহাসিক ও ফিকহি সাহিত্যে হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর আমলে তাকে বাজারের তত্ত্বাবধানমূলক দায়িত্বের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার বর্ণনা পাওয়া যায়।¹⁰
মুহতাসিবের দায়িত্ব ছিল বাজারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা, লেনদেনে অনিয়ম রোধ করা এবং জনস্বার্থ রক্ষা করা। তৎকালীন বাজার ছিল নগরের প্রায় সমস্ত বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র। ফলে বাজার তত্ত্বাবধানের কাজে নারীর সম্পৃক্ততার বর্ণনা ইসলামী সমাজে নারীর জনপরিসরে উপস্থিতির একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত।
সামরা বিনতে নুহাইক (রা.) সম্পর্কেও বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বাজারে সৎকাজের নির্দেশ দিতেন, অসৎকাজ থেকে মানুষকে বিরত রাখতেন এবং শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য একটি চাবুক বহন করতেন।¹¹
সামাজিক জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও অংশগ্রহণ করতেন। নারী ও পুরুষের সাক্ষাৎ হলে তারা ইসলামী শিষ্টাচার অনুসরণ করে পরস্পরকে সালাম দিতেন।
ইমাম বুখারি (রহ.) তাঁর সহিহ গ্রন্থে পুরুষের নারীকে সালাম প্রদান এবং নারীর পুরুষকে সালাম প্রদানের প্রসঙ্গে স্বতন্ত্র অধ্যায় রচনা করেছেন এবং এ বিষয়ে হাদিস বর্ণনা করেছেন।¹² এসব বর্ণনা নারী ও পুরুষের মধ্যে সব ধরনের সামাজিক সম্ভাষণ নিষিদ্ধ, এমন ধারণাকে সমর্থন করে না।
নারীরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মসজিদে অনুষ্ঠিত সাধারণ সমাবেশেও উপস্থিত থাকতেন। কোনো গুরুত্বপূর্ণ সমাবেশের ঘোষণা দেওয়া হলে তারাও মসজিদে উপস্থিত হতেন। ফাতেমা বিনতে কায়েস (রা.)-এর বর্ণনায় এমন একটি সাধারণ সমাবেশে তার উপস্থিতির বিবরণ পাওয়া যায়।¹³
নারীরা চিকিৎসাসেবায়ও ভূমিকা পালন করতেন। আহত ও অসুস্থদের পরিচর্যার জন্য মসজিদের নিকটে তাবু স্থাপনের বর্ণনা হাদিস ও সীরাতের সাহিত্যে পাওয়া যায়। পরবর্তী ঐতিহাসিক সূত্রে এই চিকিৎসাসেবামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে রুফাইদাহ আল-আসলামিয়্যাহ (রা.)-এর নাম বিশেষভাবে যুক্ত হয়েছে।¹⁴
মসজিদ একই সঙ্গে শিক্ষা ও সামাজিক কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহৃত হতো। নারীরা দ্বীনি জ্ঞান অর্জনের জন্য সেখানে উপস্থিত হতেন। একইভাবে বৈধ ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রদর্শনীর ঘটনাও সেখানে ঘটেছে। হযরত আয়শা (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আড়ালে দাঁড়িয়ে মসজিদের প্রাঙ্গণে হাবশিদের বর্শা নিয়ে ক্রীড়ানৈপুণ্য প্রদর্শন প্রত্যক্ষ করেছিলেন।¹⁶
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কৃষিকাজ ও সম্পদ ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিস্তৃত ছিল। সহিহ মুসলিমে উম্মু মুবাশশির (রা.)-এর খেজুরবাগানের উল্লেখ পাওয়া যায়।¹⁷
আরেকটি হাদিসে জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.)-এর খালার ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। তিনি তালাকের ইদ্দত পালনকালে নিজের বাগানের খেজুর সংগ্রহ করতে চেয়েছিলেন। এ বিষয়ে আপত্তি উঠলে তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে যান। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে বাইরে গিয়ে খেজুর সংগ্রহ করতে এবং তা থেকে সদকা কিংবা অন্য কোনো সৎকাজ করার অনুমতি দেন।¹⁸
এ থেকে বোঝা যায়, ইদ্দতসহ শরিয়তের বিধান পালন নারীর প্রয়োজনীয় ও বৈধ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সর্বতোভাবে বন্ধ করে দেওয়ার নাম নয়।
বিবাহ ও ইদ্দতের ক্ষেত্রেও নারীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ও অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সুবাইয়াহ বিনতে আল-হারিস (রা.) স্বামীর মৃত্যুর অল্প সময় পর সন্তান প্রসব করেন। সন্তান প্রসবের সঙ্গে তার ইদ্দত শেষ হয়ে গেলে তিনি সাজসজ্জা গ্রহণ করেন। আবুস সানাবিল তার এই আচরণে আপত্তি জানালে বিষয়টি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে উপস্থাপিত হয়। তিনি জানান, সন্তান প্রসবের মাধ্যমেই তার ইদ্দত শেষ হয়েছে এবং তিনি চাইলে বিবাহ করতে পারেন।¹⁹
ইহরাম অবস্থায় নারীর জন্য নিকাব ও দস্তানা পরিধান না করার বিধানও হাদিসে এসেছে।²⁰ এ বিধানকে সাধারণ অবস্থায় নারীর মুখমণ্ডল সংক্রান্ত সকল ফিকহি আলোচনার সঙ্গে এক করে দেখা উচিত নয়। কারণ ইহরামের বিধান একটি স্বতন্ত্র শরয়ি অবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে নারীরা সামরিক অভিযানেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। সাধারণ অবস্থায় যুদ্ধ করা নারীর ওপর ফরজ দায়িত্ব ছিল না, কিন্তু তারা স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে বিভিন্ন অভিযানে অংশগ্রহণ করতেন।
তাদের প্রধান দায়িত্বের মধ্যে ছিল আহতদের সেবা, সৈনিকদের পানি পান করানো এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া। উহুদের যুদ্ধে হযরত আয়শা (রা.) ও উম্মু সুলাইম (রা.)-কে পানি বহন করে আহত ও যুদ্ধরত মুসলিমদের পান করানোর বর্ণনা সহিহ হাদিসে রয়েছে।²¹
নারী সাহাবিদের সামরিক ভূমিকার আলোচনায় নুসাইবা বিনতে কা’ব আল-মাযিনিয়্যাহ (রা.), যিনি উম্মু উমারাহ নামেও পরিচিত, বিশেষভাবে স্মরণীয়। সীরাত ও তাবাকাতের গ্রন্থে উহুদের যুদ্ধে রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে রক্ষা করতে তার সরাসরি যুদ্ধ করার বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায়। তার শরীরে একাধিক ক্ষত সৃষ্টি হয়েছিল বলেও ঐতিহাসিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। পরবর্তীকালে ইয়ামামার যুদ্ধেও তার অংশগ্রহণের কথা পাওয়া যায়।²³
আসমা বিনতে ইয়াজিদ (রা.)-এর ইয়ারমুকের যুদ্ধে অংশগ্রহণের কথাও পরবর্তী ইতিহাস ও জীবনীগ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। সেখানে তার অসাধারণ সাহসিকতার বিবরণ পাওয়া যায়।²⁴ এসব বর্ণনাকে সহিহ হাদিসের সমপর্যায়ের দলিল হিসেবে নয়, বরং ইসলামী ইতিহাস ও তাবাকাত সাহিত্যে সংরক্ষিত ঐতিহাসিক বর্ণনা হিসেবে বিবেচনা করা অধিক সঙ্গত।
উম্মে হারাম বিনতে মিলহান (রা.)-এর সমুদ্র অভিযানে অংশগ্রহণের ঘটনা আরও সুস্পষ্টভাবে সহিহ হাদিসে সংরক্ষিত হয়েছে। তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে দোয়া করেছিলেন, যেন আল্লাহর পথে সমুদ্র অভিযানে অংশগ্রহণকারী মুসলিম বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন। পরবর্তীকালে তিনি মুসলিমদের এক নৌ-অভিযানে অংশগ্রহণ করেন।²⁵
এভাবে ইসলামী ইতিহাসে যুদ্ধ ও সামরিক অভিযানে মুসলিম নারীদের অংশগ্রহণের বহু দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। তবে এখানে একটি মৌলিক বিষয় স্মরণ রাখা প্রয়োজন। পুরুষদের মতো নারীদের ওপর সাধারণভাবে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করা বাধ্যতামূলক ছিল না। তা সত্ত্বেও প্রয়োজন, সামর্থ্য ও শরিয়তসম্মত পরিবেশে তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ ছিল।
এই ঐতিহাসিক দৃষ্টান্তগুলো আধুনিক সময়ে নারীর সামরিক ভূমিকা নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। তবে সমকালীন সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী কিংবা বিমানবাহিনীতে নারীর অংশগ্রহণের শরয়ি বিধান নির্ধারণে শুধু ঐতিহাসিক নজির নয়, বরং দায়িত্বের প্রকৃতি, নিরাপত্তা, পর্দা, খালওয়াত, সফর এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য শরয়ি বিধানও বিবেচনায় নিতে হবে। ইসলামী বিধিবিধানের উদ্দেশ্য নারীর সম্মান, নিরাপত্তা ও মর্যাদা সংরক্ষণ করা, তার মানবিক বা সামাজিক মর্যাদা খর্ব করা নয়।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নারী সাহাবিগণের মধ্যে যারা হাদিস বর্ণনা করেছেন, তাদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাহাবি ও পরবর্তী তাবিঈগণ নারী সাহাবিদের কাছ থেকে হাদিস, ফিকহ ও দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করেছেন। বিশেষভাবে হযরত আয়শা (রা.), উম্মু সালামা (রা.), হাফসা (রা.), আসমা বিনতে আবু বকর (রা.) প্রমুখ নারী সাহাবি ইসলামী জ্ঞানচর্চার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষক ও রাবি হিসেবে পরিচিত।²⁶
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবদ্দশায় মুসলিম নারীরা রাজনৈতিক ও সামষ্টিক ক্ষেত্রেও অংশগ্রহণ করেছিলেন। তাদের এই অংশগ্রহণের মধ্যে ছিল বাইআত, হিজরত, মতামত প্রকাশ এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরামর্শ প্রদান।
নারীদের বাইআতকে কেবল চুরি ও ব্যভিচার থেকে বিরত থাকার অঙ্গীকার বলে সীমিত করে দেখা কোরআনের বক্তব্যের পূর্ণতা প্রকাশ করে না। আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেছেন:
হে নবী! যখন মুমিন নারীরা আপনার কাছে এসে এ মর্মে বাইআত করে যে, তারা আল্লাহর সঙ্গে কোনো কিছুকে শরিক করবে না, চুরি করবে না, ব্যভিচার করবে না, নিজেদের সন্তানদের হত্যা করবে না, নিজেদের হাত-পায়ের সামনে কোনো মিথ্যা অপবাদ রচনা করবে না এবং কোনো সৎ কাজে আপনার অবাধ্য হবে না, তখন আপনি তাদের বাইআত গ্রহণ করুন এবং তাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন।²⁷
এই আয়াত নারীদের ধর্মীয় ও সামাজিক অঙ্গীকারের ব্যাপকতাকে সুস্পষ্ট করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) নারীদের কাছ থেকে বাইআত গ্রহণ করতেন, তবে গায়রে মাহরাম নারীর সঙ্গে হাত মেলানোর মাধ্যমে নয়, বরং মৌখিক অঙ্গীকারের মাধ্যমে।²⁸
হিজরতও মুসলিম সমাজের ইতিহাসে একটি গভীর সামাজিক ও রাজনৈতিক তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। নারী ও পুরুষ উভয়েই হিজরতে অংশগ্রহণ করেছেন। যারা শারীরিকভাবে অক্ষম কিংবা নিপীড়নের কারণে বের হতে পারতেন না, তাদের অবস্থা ছিল ভিন্ন।
রাজনৈতিক ও পরামর্শমূলক ক্ষেত্রে নারীর প্রজ্ঞাপূর্ণ অংশগ্রহণের অন্যতম উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হুদাইবিয়ার সন্ধির পরবর্তী ঘটনা। মুশরিকদের সঙ্গে সন্ধি সম্পন্ন হওয়ার পর রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের ইহরামমুক্ত হওয়ার জন্য কুরবানির পশু জবাই ও মাথা মুণ্ডনের নির্দেশ দেন। সন্ধির শর্তাবলির কারণে সাহাবিগণ তখন গভীরভাবে মর্মাহত ছিলেন। ফলে তারা নির্দেশ পালনে কিছুটা বিলম্ব করেন।
এ অবস্থায় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সহধর্মিণী উম্মু সালামা (রা.) অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে পরামর্শ দেন, তিনি যেন কারও সঙ্গে কথা না বলে নিজে প্রথমে কুরবানির পশু জবাই করেন এবং মাথা মুণ্ডন করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) তার পরামর্শ গ্রহণ করেন। তাঁকে তা করতে দেখে সাহাবিগণও দ্রুত তাঁর অনুসরণ করেন।²⁹
এই ঘটনায় উম্মু সালামা (রা.)-এর গভীর প্রজ্ঞা, দূরদর্শিতা এবং সংকটময় পরিস্থিতি অনুধাবনের অসাধারণ ক্ষমতার পরিচয় পাওয়া যায়। একই সঙ্গে এটি প্রমাণ করে যে নববী সমাজে নারীর পরামর্শকে কেবল পারিবারিক গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। গুরুত্বপূর্ণ সামষ্টিক পরিস্থিতিতেও একজন নারীর সুচিন্তিত মতামত গ্রহণ করা হয়েছে।
নারীদের মসজিদে যাতায়াতের বিষয়েও রাসুলুল্লাহ (সা.) সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি নারীদের মসজিদে যেতে বাধা দিতে নিষেধ করেছেন। ঈদের জামাআতেও নারীদের উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এমনকি ঋতুবতী নারীরাও সালাতের স্থান থেকে পৃথক থেকে মুসলিমদের সামষ্টিক কল্যাণ ও দোয়ার পরিবেশে অংশগ্রহণ করতেন।³⁰
এসব ঘটনা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের সামাজিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষাগত, ধর্মীয়, জনকল্যাণমূলক, সামরিক ও রাজনৈতিক জীবনে সক্রিয় অংশগ্রহণের কয়েকটি মাত্র উদাহরণ। এর সমর্থনে আরও বহু দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করা সম্ভব।
আলোচিত ঘটনাগুলো ইসলামে নারীর প্রকৃত অবস্থান, মর্যাদা ও ভূমিকার একটি বিস্তৃত চিত্র আমাদের সামনে তুলে ধরে। একই সঙ্গে এগুলো স্মরণ করিয়ে দেয়, মুসলিম সমাজে প্রচলিত প্রতিটি সামাজিক প্রথাই শরিয়তের বিধান নয়। কোনো বিশেষ অঞ্চল, গোত্র বা সমাজে দীর্ঘকাল কোনো প্রথা প্রচলিত থাকলেই তা ইসলামের অপরিবর্তনীয় বিধানে পরিণত হয় না।
ইসলাম নারীকে মর্যাদা দিতে গিয়ে তার নারীসত্তাকে অস্বীকার করেনি। আবার নারীসত্তার অজুহাতে তাকে মানবসমাজের নিষ্ক্রিয় প্রান্তিক সদস্যেও পরিণত করেনি। বরং তার ঈমান, ব্যক্তিত্ব, দায়িত্ববোধ, জ্ঞান, সক্ষমতা, সম্মান ও নিরাপত্তাকে স্বীকৃতি দিয়েই তাকে মুসলিম সমাজের মর্যাদাপূর্ণ অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে।
ফুটনোট
১. আল-কুরআন, সূরা আন-নাহল, ১৬:৫৮-৫৯।
২. ইবনে হিশাম, আস-সীরাহ আন-নাবাবিয়্যাহ, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দাওয়াতের প্রাথমিক পর্যায় ও হযরত খাদিজা (রা.)-এর ইসলাম গ্রহণের বিবরণ দ্রষ্টব্য।
৩. ইবনে সাদ, আত-তাবাকাতুল কুবরা, নারী সাহাবিদের জীবনী; ইবনে হাজার আল-আসকালানি, আল-ইসাবাহ ফি তাময়ীযিস সাহাবাহ, সুমাইয়্যা বিনতে খাইয়্যাত (রা.)-এর জীবনী।
৪. ইবনে হিশাম, আস-সীরাহ আন-নাবাবিয়্যাহ, হিজরত ইলাল-হাবাশাহ প্রসঙ্গ।
৫. ইবনে হিশাম, আস-সীরাহ আন-নাবাবিয়্যাহ, দ্বিতীয় বাইআতুল আকাবাহ প্রসঙ্গ।
৬. সহিহ আল-বুখারি, হাদিস ২৪৬৮, ৫১৯১; সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৪৭৯-এর সংশ্লিষ্ট বর্ণনা।
৭. সহিহ মুসলিম, কিতাবুস সালাম, হাদিস ২১৭১, ২১৭৩; মুসনাদে আহমদে এ অর্থে বর্ণনা রয়েছে।
৮. সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৪৮০-এর বিভিন্ন বর্ণনা। ফাতেমা বিনতে কায়েস (রা.)-এর ঘটনাটি স্বামীর মৃত্যুর পর নয়, চূড়ান্ত তালাকের পরের ঘটনা।
৯. সহিহ আল-বুখারি, হাদিস ৪৭৯৫, ৫২৩৭; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২১৭০।
১০. ইবনে হাযম, আল-মুহাল্লা বিল-আসার, খণ্ড ৮, সংশ্লিষ্ট আলোচনা। আশ-শিফা বিনতে আবদুল্লাহ (রা.)-এর বাজার তত্ত্বাবধানের দায়িত্বের প্রকৃতি ও তাকে আনুষ্ঠানিক “মুহতাসিব” হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার দাবির প্রামাণ্যতা নিয়ে গবেষকদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।
১১. ইবনে আবদিল বার, আল-ইস্তিআব ফি মারিফাতিল আসহাব; ইবনে হাজার, আল-ইসাবাহ ফি তাময়ীযিস সাহাবাহ, সামরা বিনতে নুহাইক (রা.)-এর জীবনী।
১২. সহিহ আল-বুখারি, কিতাবুল ইস্তি’যান, নারীদের সালাম প্রদান ও গ্রহণসংক্রান্ত অধ্যায়; হাদিস ৬২৪৮ এবং সংশ্লিষ্ট বর্ণনা।
১৩. সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৯৪২।
১৪. ইমাম বুখারি, আল-আদাবুল মুফরাদ, আহত ও অসুস্থ ব্যক্তির পরিচর্যাসংক্রান্ত বর্ণনা; পরবর্তী সীরাত ও ইতিহাসগ্রন্থে রুফাইদাহ আল-আসলামিয়্যাহ (রা.)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
১৫. সহিহ আল-বুখারি, হাদিস ২০২৬, ২০৩৭ এবং ইতিকাফসংক্রান্ত অন্যান্য বর্ণনা।
১৬. সহিহ আল-বুখারি, হাদিস ৪৫৪, ৪৫৫, ৫২৩৬ এবং সংশ্লিষ্ট বর্ণনা।
১৭. সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৫৫২।
১৮. সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৪৮৩; সুনান আবু দাউদ ও সুনান আন-নাসাঈতে সংশ্লিষ্ট বর্ণনা।
১৯. সহিহ আল-বুখারি ও সহিহ মুসলিমে সুবাইয়াহ আল-আসলামিয়্যাহ (রা.)-এর ঘটনা বর্ণিত হয়েছে; সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৪৮৪ এবং সংশ্লিষ্ট বর্ণনা দ্রষ্টব্য।
২০. সহিহ আল-বুখারি, কিতাবুল হাজ্জ, ইহরাম অবস্থায় নারীর নিকাব ও দস্তানা পরিধানসংক্রান্ত হাদিস। এখানে সাধারণভাবে মুখ ঢাকা নয়, বিশেষভাবে নিকাব পরিধানের বিধান আলোচিত হয়েছে।
২১. সহিহ আল-বুখারি, হাদিস ২৮৮০; সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৮১০ এবং সামরিক অভিযানে নারীদের সেবামূলক অংশগ্রহণসংক্রান্ত বর্ণনা।
২২. সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৮০৯; সুনান আবু দাউদ, হাদিস ২৭১৮ এবং সংশ্লিষ্ট বর্ণনা।
২৩. ইবনে সাদ, আত-তাবাকাতুল কুবরা; ইবনে হাজার, আল-ইসাবাহ ফি তাময়ীযিস সাহাবাহ, নুসাইবা বিনতে কা’ব বা উম্মু উমারাহ (রা.)-এর জীবনী। তার সামরিক ভূমিকার বহু বিস্তারিত বর্ণনা সীরাত ও ইতিহাসগ্রন্থনির্ভর।
২৪. ইবনে হাজার, আল-ইসাবাহ ফি তাময়ীযিস সাহাবাহ, আসমা বিনতে ইয়াজিদ (রা.)-এর জীবনী। ইয়ারমুকের যুদ্ধসংক্রান্ত ঘটনাটি ঐতিহাসিক বর্ণনা হিসেবে উল্লেখযোগ্য।
২৫. সহিহ আল-বুখারি ও সহিহ মুসলিম, উম্মে হারাম বিনতে মিলহান (রা.)-এর সমুদ্র অভিযানে অংশগ্রহণসংক্রান্ত বর্ণনা।
২৬. ইবনে সাদ, আত-তাবাকাতুল কুবরা; ইবনে হাজার, আল-ইসাবাহ; ইমাম যাহাবি, সিয়ারু আ’লামিন নুবালা, নারী সাহাবিদের জীবনীসংক্রান্ত অংশসমূহ।
২৭. আল-কুরআন, সূরা আল-মুমতাহিনাহ, ৬০:১২।
২৮. সহিহ আল-বুখারি ও সহিহ মুসলিম, নারীদের বাইআতসংক্রান্ত হযরত আয়শা (রা.)-এর বর্ণনা। রাসুলুল্লাহ (সা.) নারীদের কাছ থেকে মৌখিকভাবে বাইআত গ্রহণ করতেন এবং গায়রে মাহরাম নারীর হাত স্পর্শ করতেন না।
২৯. সহিহ আল-বুখারি, হাদিস ২৭৩১-২৭৩২ এবং হুদাইবিয়ার সন্ধিসংক্রান্ত দীর্ঘ বর্ণনা।
৩০. সহিহ আল-বুখারি ও সহিহ মুসলিম, নারীদের মসজিদে যেতে বাধা না দেওয়া এবং ঈদের সমাবেশে নারীদের অংশগ্রহণসংক্রান্ত হাদিসসমূহ।
– আহমাদ জাকি ইয়ামান
অনুবাদ : মাসুমা আক্তার
