কোরআনের দৃষ্টিতে বিজ্ঞানের দর্শন

চিন্তা ও দর্শন

এখানে বিজ্ঞান (science) দ্বারা আমরা জ্ঞানের সেই শাখাকে বোঝাচ্ছি যা বস্তুজগৎ নিয়ে কাজ করে। বিজ্ঞানের দর্শন ওই সকল দার্শনি‌ক সমস্যা নিয়ে কাজ করে যা বিজ্ঞানের সাথে সংযুক্তির কারণে উৎপন্ন হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো হলো-
১। ভৌত জগৎ সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান কীভাবে প্রসারিত হয়?
২। বৈজ্ঞানিক গবেষণার ধ্রুব নীতিগুলো কী?
এখানে আমরা কুরআনের দৃষ্টিকোণ থেকে এই দুইটি সমস্যা নিয়ে আলোচনা করবো।

কুরআনের দৃষ্টিকোণ থেকে জ্ঞানতাত্ত্বিক সমস্যা

কুরআনের দৃষ্টিতে আমাদের মনের একটি স্বাধীন বাস্তবজগতৎ রয়েছে।

  • সুনিশ্চিত বিশ্বাসীদের জন্য যমীনে অনেক নিদর্শন রয়েছে, এবং তোমাদের নিজেরদের মধ্যেও। তোমরা কি অনুধাবন করবে না? [৫১:২০-২১]
  • সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছেন আর সৃষ্টি করেছেন অন্ধকার ও আলো [৬:১]
  • তারা কি আসমান-যমীনের রাজত্বে আর আল্লাহ যে সব বস্তু সৃষ্টি করেছেন তাতে কিছুই দেখে না? [৭:১৮৫]

আর আমাদেরকে আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য (প্রাকৃতিক নিদর্শনাবলীর মাধ্যমে) ভৌত জগতকে অধ্যয়ন করার এবং তিনি আমাদের জন্য যে বিধান দিয়েছেন তা ব্যাবহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • বলে দাও ; তোমরা লক্ষ্য করো যা কিছু রয়েছে আসমান ও যমীনে ; যারা ঈমান আনে না তাদের জন্য নিদর্শনাবলী এবং ভয়-ভীতি প্রদর্শন কোনো কাজে আসে না। (১০:১০১)
  • আল্লাহই স্তম্ভ ছাড়াই আকাশমণ্ডলীকে উর্ধ্বে তুলে রেখেছেন, যা তোমরা দেখছ। অতঃপর তিনি আরশে সমুন্নত হয়েছেন। তিনিই সূর্য এবং চন্দ্রকে নিয়মের বন্ধনে বশীভূত রেখেছেন। প্রত্যেকেই নির্দিষ্ট সময়ের জন্য গতিশীল রয়েছে। যাবতীয় বিষয় তিনিই নিয়ন্ত্রণ করেন, তিনি নিদর্শনসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করেন যাতে তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যাপারে দৃঢ় বিশ্বাসী হতে পারো। [১৩:০২]
  • তিনিই রাত ও দিনকে তোমাদের উপকারে নিয়োজিত করেছেন। আর সূর্য ও চাঁদকেও; এবং তারকারাজিও তারই নির্দেশে নিয়ন্ত্রিত। বিবেকসম্পন্ন লোকদের জন্য এতে অবশ্যই বহু নিদর্শন রয়েছে। আর তিনি তোমাদের জন্য যমীনে যা সৃষ্টি করেছেন বিচিত্র রঙের করে, এতে ঐ সমস্ত লোকদের জন্য নিশ্চিতভাবে নিদর্শন আছে যারা উপদেশ গ্রহণ করে। আর তিনিই সমুদ্রকে অধীন করেছেন যাতে তোমরা তা হতে তাজা গোশত আহার করতে পারো এবং যাতে তা হতে আহরণ করতে পারো রত্নাবলী যা তোমরা ভূষণ রুপে পরিধান করো। আর নৌযাঙ্গুলোকে তোমরা দেখতে পাও ঢেউয়ের বুক চিরে তাতে চলাচল করে যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ তালাশ করতে পারো আর শোকর আদায় করতে পারো। (১৬:১২-১৪)

যদি প্রকৃতি বিষয়ক অধ্যয়ন সম্ভব না হতো, তবে কুরআন আমাদের প্রাণী ও ঘটনার উৎপত্তি এবং বিবর্তনের ধারা অধ্যয়ন করার পরামর্শ দিতো না। তাছাড়া কুরআনে এমন কিছু আয়াত রয়েছে, যা স্পষ্টভাবে এই বিষয়টিকে প্রদর্শন করে।

  • আমি শীঘ্রই তাদের জন্য আমার নিদর্শনাবলী ব্যাক্ত করবো বিশ্বজগতে এবং তাদের নিজেদের মধ্যে। ফলে তাদের নিকট সুসস্পষ্ট হয়ে উঠবে যে ওটাই সত্য। (৪১:৫৩)

অপরদিকে কুরআন সকল মানুষের জন্য একটি পথ নির্দেশনামূলক গ্রন্থ এবং মানুষের জীবন পরিচালনার সাথে প্রাসঙ্গিক কোনো কিছুকেই অবহেলা করেনি।

  • আর আমি তোমার প্রতি এ কিতাব নাযিল করেছি যা প্রত্যেকটি বিষয়ের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা, সত্য পথের নির্দেশ , রহমত আর আত্মসমর্পণকারীদের জন্য সুসংবাদ স্বরূপ। (১৬:৮৯)
  • আমি কিতাবে কোনো বিষয়ই লিপিবদ্ধ করতে বাদ রাখিনি। (৬:৩৮)

তাই আমরা আশা করি যে যত্ন সহকারে অধ্যয়নের মাধ্যমে কেউ প্রকৃতি অধ্যয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম এবং প্রক্রিয়া নির্ধারণ করতে সক্ষম হবে।

প্রকৃতির জ্ঞান অর্জনের জন্য সরঞ্জাম:

কুরআন অনুসারে প্রকৃতি অধ্যয়নের সাধারণ সরঞ্জাম হলো আমাদের ইন্দ্রিয় এবং আমাদের বুদ্ধি।

  • আর আল্লাহ তোমাদের নির্গত করেছেন তোমাদের মাতৃগর্ভ হতে এমন অবস্থায় যে, তোমরা কিছুই জানতে না। তিনি তোমাদের দিয়েছেন শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি এবং হৃদয় যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো। (১৬:৭৮)

আমরা পর্যবেক্ষণ এবং প্রতিফলনের মাধ্যমে সমর্থিত পরীক্ষণের (experimentation)  মাধ্যমে শিখি।

  • বলো, তোমরা পৃথিবীতে পরিভ্রমণ কর অতঃপর লক্ষ্য করো কিভাবে তিনি সৃষ্টির সূচনা করেছেন। (২৯:২০)
  • তারা কি যমীনে ভ্রমণ করেনি? তাহলে তাদের হতো এমন হৃদয় যা দ্বারা তারা উপলব্ধি করতে পারত এবং এমন কান যা দ্বারা তারা শুনতে পারতো।(২২:৪৬)

এই আয়াতগুলির প্রথম অংশ পর্যবেক্ষণ পরীক্ষা-নিরীক্ষার কথা বলে এবং দ্বিতীয় অংশ যুক্তির অনুষদের ব্যাবহারের কথা বলে। সুতরাং পরীক্ষামূলক কাজ প্রকৃতিকে বোঝার জন্য একটি অপরিহার্য হাতিয়ার (tool), কিন্তু কিছু চিন্তাধারার দাবির বিপরীতে, প্রকৃতি সম্পর্কে আমাদের সমস্ত তথ্য সংবেদন থেকে আসে না। যদি আমরা নিজেদেরকে সংবেদনগুলোতে সীমাবদ্ধ রাখি এবং আমাদের বুদ্ধির ব্যাবহার না করি তাহলে আমরা পশুদের চেয়ে উত্তম নই।

  • তাদের হৃদয় আছে কিন্তু তা দিয়ে উপলব্ধি করে না, তাদের চোখ আছে কিন্তু তা দিয়ে দেখে না, তাদের কান আছে কিন্তু তা দিয়ে শোনে না। তারা জন্তু জানোয়ারের মতো, বরং তারচেয়েও পথভ্রষ্ট, তারা একেবারে বেখবর। (৭:১৭৯)

অধিকন্তু কুরআনে প্রায়শই উল্লেখ করা হয়েছে যে প্রকৃতিতে অলৌকিক নিদর্শনগুলোর উপলব্ধি কেবল বুদ্ধিমান ব্যাক্তিদের পক্ষেই সম্ভব।

  • নিশ্চয়ই নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সৃষ্টিতে এবং দিন ও রাতের পরিবর্তনে বিবেকবানদের জন্য বহু নিদর্শন রয়েছে। যারা আল্লাহকে স্মরণ করে দাঁড়িয়ে, বসে ও কাত হয়ে এবং আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টির ব্যাপারে চিন্তা-গবেষণা করে। (৩:১৯০-১৯১)
  • নিশ্চয় আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টিতে, রাত ও দিনের বিবর্তনে, সে নৌকায় যা সমুদ্রে মানুষের জন্য কল্যানকর বস্তু নিয়ে চলাচল করে এবং আসমান থেকে আল্লাহ যে বৃষ্টি বর্ষণ করেছেন অতঃপর তার মাধ্যমে মরে যাওয়া যমীনকে জীবিত করেছেন এবং তাতে ছড়িয়ে দিয়েছেন সকল প্রকার বিচরণশীল প্রানী ও বাতাসের পরিবর্তনে এবং আসমান ও যমীনের মধ্যবর্তী স্থানে নিয়োজিত মেঘমালায় রয়েছে নিদর্শন এমন লোকদের জন্য যারা বিবেকসম্পন্ন। (২:১৬৪)

কুরআন আমাদের আরও শিক্ষা দেয় যে বস্তুজগতে এমন অনেক বাস্তবতা (realities) রয়েছে যা আমরা আমাদের ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে অনুভব করতে পারি না।

  • অতএব, তোমরা যা দেখছো আমি তার শপথ করছি। আর সেসব জিনিসেরও যা তোমরা দেখতে পাও না। (৬৯:৩৮-৩৯)
  • তিনি আসমানসমূহ নির্মাণ করেছেন স্তম্ভ ছাড়াই যা তোমরা দেখছো।(৩১:১০)

পরিশেষে কুরআন তাদের নিন্দা করে যারা মনে করে যে ভৌত জগতের সম্পর্কে আমাদের তথ্যের একমাত্র উৎস হলো ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে উপলব্ধি।

  • আহলে কিতাবগন তোমার নিকট আবেদন জানায় যে তুমি তাদের প্রতি আকাশ হতে কোনো গ্রন্থ নাযিল করো। তারা তো মূসার নিকট এর অপেক্ষাও বৃহত্তর দাবি করেছিলো। তারা বলেছিলো, আল্লাহকে প্রকাশ্যভাবে  প্রদর্শন করো। অতঃপর তাদের অবাধ্যতার জন্য বজ্রপাত তাদেরকে আক্রমণ করেছিলো। (৪:১৫৩)

দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এই শতকের প্রথমদিকে “দৃষ্টিবাদ” এর বাতাস বইতে শুরু করেছিলো, যা বহু মুসলিম পন্ডিতের মনকে প্রভাবিত করেছে এবং এমন অনেক মুসলিম বিজ্ঞানী আছেন যারা মনে করেন যে ভৌত জগতের প্রতি আমাদের জ্ঞানমাত্রই ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য অভিজ্ঞতার বর্ণনার বাইরে যায় না। এই চিন্তাধারা সম্পর্কে আমাদের নিম্নলিখিত পর্যবেক্ষণ রয়েছেঃ

আমরা কখনো শূণ্য মন নিয়ে প্রকৃতির মুখোমুখি হই না আর এই কারণে নিখুঁত পরীক্ষামূলক তথ্যের (pure experimental data) কোনো অস্তিত্ব নেই। পরীক্ষামূলক তথ্যের ব্যাখ্যা এবং এমনকি পরীক্ষামূলক তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা সম্পর্কিত আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিও কিছুটা পরিমানে নির্ভর করে গবেষক দ্বারা ধারণকৃত পূর্ব ধারণা ও অনুমানসমূহের উপর। প্ল্যাঙ্ক এই বিষয়টি সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।

ভৌত বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে প্রতিটি পরিমাপ তার সার্থকতা বা অর্থ খুঁজে পায় কেবল একটি তত্ত্বের মাধ্যমে। যারা সূক্ষ্ম গবেষণাগারের (precision laboratory) কাজ সম্পর্কে অবগত, তারা সবাই একমত হবেন যে ওজন বা বিদ্যুৎপ্রবাহের মতো অত্যন্ত নিখুঁত এবং সরাসরি পরিমাপগুলোকেও কোনো ব্যবহারিক উদ্দেশ্যে প্রয়োগ করার আগে বারবার সংশোধন করে নিতে হয়।

এটা স্পষ্ট যে পরিমাপ প্রক্রিয়া নিজেই এই সংশোধনগুলো(correction) প্রস্তাব করতে পারে না। পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে এগুলো প্রথমে আবিষ্কৃত হতে হবে কোনো একটি তত্ত্বের উপর আলোকপাত করে। অর্থাৎ এগুলো কোনো না কোনো হাইপোথিসিস (অনুমান) থেকে উদ্ভুত হতে হবে।

যেমন, আইনস্টাইন সঠিকভাবে উল্লেখ করেছেন, বিজ্ঞানের মৌলিক ধারণা এবং উপপাদ্যগুলি কোনো আবেশন প্রক্রিয়া (process of induction) দ্বারা ইন্দ্রিয় অভিজ্ঞতা থেকে উদ্ভূত হতে পারে না। বরং এগুলো মানুষের মনের মুক্ত আবিষ্কার।

পদার্থবিজ্ঞান হলো চিন্তার একটি যৌক্তিক কাঠামো যা বিবর্তনের একটি পর্যায়ে রয়েছে; এর ভিত্তি কেবল অভিজ্ঞতার মাধ্যমে আরোহী পদ্ধতিতে (Inductive method) ছেঁকে বের করা সম্ভব নয়, বরং এটি কেবল মুক্ত উদ্ভাবনের মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব। এই কাঠামোর যৌক্তিকতা বা সত্যতা নির্ভর করে ইন্দ্রিয়লব্ধ অভিজ্ঞতার মাধ্যমে এর থেকে প্রাপ্ত প্রস্তাবনাগুলোর যাচাইকরণের উপর। 

যার ফলে পূর্বেরটির (যৌক্তিক ভিত্তি) সাথে পরেরটির (প্রতিপাদ্য বিষয়) সম্পর্ক শুধুমাত্র অন্তর্দৃষ্টির মাধ্যমে বোঝা যায়। বিবর্তন এগিয়ে চলছে যৌক্তিক ভিত্তির ক্রমবর্ধমান সরলীকরণের অভিমুখে‌। এই লক্ষ্যের আরও কাছে পৌঁছানোর জন্য আমাদের এই সত্যটি মেনে নিতেই হবে যে যৌক্তিক ভিত্তি আমাদের অভিজ্ঞতালব্ধ বাস্তব জগৎ থেকে ক্রমেই দূরে সরে যাচ্ছে এবং আমাদের চিন্তার পথটি মৌলিক ভিত্তি থেকে প্রস্তাবনা প্রতিপাদন, যা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য অভিজ্ঞতার সাথে সম্পর্কিত ক্রমশ কঠিন এবং দীর্ঘ হয়ে পড়ে।

এই অবস্থার বা সত্যের(fact) কারণ হলো যে একটি তত্ত্বকে একটি পরীক্ষণের সরাসরি ফলাফল হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে যদি আমরা দেখাতে পারি সেই পরীক্ষার জন্য আর কোনো বিকল্প ব্যাখ্যা থাকতে পারে না; কিন্তু এটা আমরা কখনো দাবি কর‍তে পারি না এবং অতীত অভিজ্ঞতা আমাদেরকে এই ধরনের ভুলের ব্যাপারে সতর্ক করেছে।

একটি তত্ত্ব এবং পরীক্ষামূলক তথ্যের একটি সেটের মধ্যে সমঝোতার (agreement) অর্থ এই নয় যে তত্ত্বটি সঠিক। কারণ, যৌক্তিকভাবে বলতে গেলে একই উপসংহারে ভিন্ন ভিন্ন পূর্বানুমান বা প্রেক্ষাপট থেকে পৌছানো সম্ভব। সুতরাং, আমরা কখনো দাবি করতে পারি না যে, কোনো একটি তত্ত্ব হলো পরীক্ষালব্ধ ডাটার সরাসরি ফলাফল। এক সেট পরীক্ষালব্ধ তথ্য ব্যাখ্যা করার জন্য অগণিত তত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।

এগুলোর মধ্যে একটিকে আলাদা করার জন্য একজনকে অন্যান্য অনুমান (assumption) যোগ করতে হবে বা অন্য তথ্য আনতে হবে। যখন কেপলার স্থির নক্ষত্রের পটভূমিতে মঙ্গল গ্রহের আপেক্ষিক অবস্থান সম্পর্কে ডেটা অধ্যয়ন করছিলেন। তিনি প্রাপ্ত তথ্য থেকে একটি সুন্দর দেখতে (good looking) সূত্র অনুমান করতে চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু ব্যার্‌থ হয়েছেন।

তারপর অন্য প্রসঙ্গে উপবৃত্তের তত্ত্ব নিয়ে কাজ করার পরে তিনি ধরে নিলেন যে কক্ষপথটি উপবৃত্তাকার। তিনি এই অনুমানটি পরীক্ষালব্ধ তথ্যের সাথে যাচাই করলেন এবং দেখলেন এটি ভালোভাবে কাজ করছে। এইভাবে, মঙ্গল গ্রহের জন্য একটি উপবৃত্তাকার কক্ষপথের ধারণা, মঙ্গল গ্রহের অবস্থান পর্যবেক্ষণের সরাসরি ফলাগল ছিলো না।

অতএব, বিজ্ঞানের অগ্রগতি পরীক্ষামূলক কাজ এবং তাত্ত্বিক অনুমান উভয়ের কারণেই হয়েছে।

অনেক ধারণা (concept) ইন্দ্রিয় অভিজ্ঞতা থেকে আহরণযোগ্য নয়। উদাহরণস্বরুপ, “কার্‌য কারণ” (causality) এর ধারণাটি ইন্দ্রিয়গত প্রভাব থেকে উদ্ভুত হয় না। আমরা আমাদের ইন্দ্রিয়ের এইটুকু পাই যে, যেমন A এর পরে সবসময় B আসে, A এবং B এর মাঝে একটি আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক আছে, যা আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিচার।

এমনকি ভৌত বিজ্ঞানেও (physical science) অনেক ধারনা (concept) পর্যবেক্ষণের সরাসরি উপজাত (by-product) নয় এবং পরীক্ষালব্ধ তথ্য ব্যাখ্যা করার জন্য বিজ্ঞানীরা এগুলো চালু করেছেন। উদাহরণস্বরুপ, আমরা হাজারো পরীক্ষার পর্যবেক্ষণ ব্যাখ্যা করার জন্য পরমানুর ধারণা ব্যাবহার করি, যদিও কেউ কখনো কোনো পরমানু পর্যবেক্ষণ করেনি (এমনকি দৃষ্টি প্রসারণকারী (sence-extending) যন্ত্রের সাহায্যেও না)। আমরা পরমাণুকে জানি অনুমানের মাধ্যমে। একইভাবে মহাকাশের দূরবর্তী অঞ্চল এবং সময় সম্পর্কে আমাদের তথ্যও দ্ব্যার্‌থহীন নয়।

এই আলোচনা থেকে আমরা যে উপসংহারে পৌছাতে চাই তা হলো, তাত্ত্বিক যুক্তি ছাড়া কেবল পরীক্ষা-নিরীক্ষাই প্রকৃতি সম্পর্কে আমাদের অর্থপূর্ণ তথ্য দিতে পারে না। যদিও ভৌত জগতের একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ চিত্র ধারণের জন্য পর্যবেক্ষণ এবং পরীক্ষণ অপরিকার্‌য। প্রকৃতি সম্পর্কে আমাদের সমস্ত জ্ঞান ইন্দ্রিয়গত অভিজ্ঞতা থেকে উদ্ভুত নয়।

ভৌত জগতের সঠিক চিত্র পাওয়ার প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ এবং এটি কেবলমাত্র পরীক্ষামূলক কাজ এবং তাত্ত্বিক উদ্যোগের পারস্পরিক ক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন করা সম্ভব।

সঠিক যুক্তির বিরুদ্ধে বাধা

আমরা যেমন উল্লেখ করেছি , কুরআন আমাদের প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করতে এবং আমরা যা পর্যবেক্ষণ করি তার প্রতি চিন্তা ভাবনা করার নির্দেশ দেয়। প্রতিফলন (reflection) হলো বিদ্যমান তথ্যকে ব্যাবহার করে নতুন জ্ঞানের দিকে অগ্রসর হওয়া। যাই হোক, এই বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলন শুধুমাত্র তখনই সঠিক ফলাফলের দিকে নিয়ে যেতে পারে যদি কিছু নির্দিষ্ট নীতি (principle) এবং নিয়ম (rule) পালন করা হয়।

এভাবেই আমরা যুক্তিশাস্ত্রে উপনীত হই, যা হলো সঠিক চিন্তাভাবনা বা যুক্তির নিয়মাবলী সংক্রান্ত অধ্যয়ন। তবে শুধুমাত্র যুক্তিশাস্ত্রের নিয়মগুলো ব্যাবহার করলেই সঠিক ফলফলের নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না, যদি না আমরা নিশ্চিত করি যে যুক্তিশাস্ত্রে ব্যাবহৃত ভিত্তিগুলো (premises) ত্রুটিহীন। এই কারণেই কুরআন আমাদের সেই বিষয়গুলো সম্পর্কে সতর্ক করেছে যা আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিকে সঠিকভাবে কাজ করতে বাধা দিতে পারে। এখানে আমরা সেই প্রধান কারণগুলো উল্লেখ করছি, যা প্রকৃতি সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান লাভের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

বিশ্বাসের অভাব

কুরআনের মতে ঈমাণ বা বিশ্বাসহীন জ্ঞান মানুষকে প্রকৃতি সম্পর্কে সঠিক উপলব্ধিতে পৌছাতে দেয় না।

  • বলে দাও, তোমরা লক্ষ্য করো যা কিছু রয়েছে আসমান ও যমীনে, যারা ঈমান আনে না তাদের জন্য নিদর্শনাবলী এবং ভয়-ভীতি প্রদর্শন কোনো কাজে আসে না। (১০:১০১)

উপলব্ধির ক্ষেত্রে বিশ্বাসের মূল ভুমিকা হলো মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষমতাকে শয়তানের প্ররোচনা থেকে মুক্ত করে তার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা।

বিচারে পক্ষপাতিত্ব

ভালোবাসা বা ঘৃণা, যেকোনো ক্ষেত্রেই নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করা, অযৌক্তিক কুসংস্কার এবং অহংকার হলো সেই প্রধানতম কারণ যা মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিকে নিরপেক্ষতা ও সঠিক বিচারবুদ্ধি থেকে বিরত রাখে।

  • এবং তুমি যদি জ্ঞান আসার পরেও এদের ইচ্ছা অনুযায়ী চলো, তাহলে তোমার জন্য আল্লাহর ক্রোধ হতে রক্ষা করার মতো কোনো অভিভাবক ও সাহায্যকারী থাকবে না। (২:১২০)
  • অবশ্যই তোমাদের কাছে আমি সত্য নিয়ে এসেছিলাম; কিন্তু তোমাদের অধিকাংশই ছিলে সত্য অপছন্দকারী। (৪৩:৭৮)
  • তারপর যখন তাদের কাছে আমার দৃশ্যমান নিদর্শন এলো, তারা বললো, এটা তো স্পষ্ট জাদু। আর তারা অন্যায় ও উদ্ধতভাবে নিদর্শনগুলোকে প্রত্যাখ্যান করলো। অথচ তাদের অন্তর তা নিশ্চিত বিশ্বাস করেছিলো।(২৭:১৪)

পূর্বপূরুষ এবং প্রভাবশালীদের অন্ধ অনুকরণ

  • তারা আরও বলবেঃ হে আমাদের রব! আমরা আমাদের নেতা ও বিশিষ্ট লোকদের আনুগত্য করেছিলাম এবং তারা আমাদের পথভ্রষ্ট করেছিল। (৩৩:৬৭)
  • বরং আমরা তাই অনুসরণ করবো যা আমাদের পিতৃ-পূরুষগণ হতে প্রাপ্ত হয়েছি; যদিও তাদের পিতৃ-পূরুষদের কোনো জ্ঞানই ছিলো না এবং তারা সুপথগামীও ছিলো না। (২:১৭০)

অযৌক্তিক অস্বীকার এবং স্বীকৃতিদান

বিচারের ক্ষেত্রে ভুলের অন্যতম প্রধান কারণ হলো নিশ্চিত জ্ঞানের পরিবর্তে অনুমানের স্থলাভিষিক্তকরণ।

  • অথচ এ বিষয়ে তাদের কোন জ্ঞানই নেই। তারা তো কেবল অনুমানেরই অনুসরণ করে। আর নিশ্চয় অনুমান সত্যের মোকাবেলায় কোনোই কাজে আসে না। (৫৩:২৮)

বৈজ্ঞানিক গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি হলো কোনো যুক্তি বা কারণ ছাড়া কোনোকিছু নিশ্চিতভাবে গ্রহণ বা বর্জন করা উচিত নয়।

যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই সে বিষয়ে অনুমান দ্বারা পরিচালিত হয়ো না। কর্ণ, চক্ষু, হৃদয়- এদের প্রত্যেকের নিকট হতে কৈফিয়ত তলব করা হবে। (১৭:৩৬)

বৈজ্ঞানিক গবেষণার পূর্বলব্ধ নীতি

আমরা উল্লেখ করেছি যে বৈজ্ঞানিক গবেষণা হলো পরীক্ষামূলক/প্রায়োগিক কাজ এবং বুদ্ধিবৃত্তিক ক্রিয়াকলাপের সংমিশ্রণ। এই প্রচেষ্টা অর্‌থবহ করে তোলার এবং সঠিক ফলাফল অর্জনের নিশ্চয়তা দেওয়ার জন্য যেকোনো গবেষণার আগেই কিছু নির্দিষ্ট নীতি বা স্বতঃসিদ্ধ মেনে নিতে হয়।

এই নীতিগুলোর সংখ্যা এবং এগুলোর ব্যাখ্যা সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের মতভেদ বা দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। কুরআনকে পথপ্রদর্শক হিসেবে গ্রহণ করে আমরা মনে করি যে, যুক্তিশাস্ত্রের মৌলিক নীতিসমূহ (যেমন: principle of non contradiction) ছাড়াও নিচের নীতিগুলো এমন, যা যেকোনো বৈজ্ঞানিক কর্মকান্ডের আগেই মেনে নিতে হয়।

১। আল্লাহর একত্ববাদের নীতি (Al-tawhid)

কুরআনের দৃষ্টিতে, প্রকৃতি নিয়ে গবেষণা করা শুধুমাত্র নিজের কৌতুহল মেটানোর জন্য হওয়া উচিত নয়। বরং এটি হওয়া উচিত মহাবিশ্বের সেই প্রজ্ঞাময় স্রষ্টা মহাজাগতিক বিধানদাতার (আল্লাহর) পরিচয়ের জন্য। প্রাকৃতিক সকল সত্তাই সেই সর্বশক্তিমানের নিদর্শন এবং এগুলো নিয়ে যেকোনো গবেষণা আমাদের তাঁর দিকেই ধাবিত করা উচিত।

এছাড়াও কুরআনে ভৌত জগতের শৃঙ্খলা (order), সামঞ্জস্য (harmony), সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যের (purpose) উপস্থিতির বিষয়ে অনেক নির্দেশ বা প্রমাণ (reference) রয়েছে।

  • তিনি সমস্ত কিছু সৃষ্টি করেছেন এবং প্রত্যেককে পরিমিত করেছেন যথাযথ অনুপাতে।(২৫:২)
  • পরম করুনাময়ের সৃষ্টিতে তুমি কোনো অসামঞ্জস্য দেখতে পাবে না। তুমি আবার দৃষ্টি ফিরাও, কোনো ত্রুটি দেখতে পাও কি? (৬৭:০৩)
  • আর আমি আসমানসমূহ, যমীন এবং এদের মধ্যস্থিত কোনো কিছুই ক্রিয়াচ্ছলে সৃষ্টি করিনি, কিন্তু তাদের অধিকাংশই তা জানে না। (৪৪:৩৮-৩৯)

এই মহাজাগতিক শৃঙ্খলা এবং সুসমন্বয়কে মহাবিশ্বের স্রষ্টা এবং সমন্বয়কে মহাবিশ্বের স্রষ্টা এবং সমন্বয়কারীর (আল্লাহ) কৃতিত্ব হিসেবে গণ্য করা হয়।

  • আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে যদি আল্লাহ ছাড়া বহু মাবুদ থাকতো তাহলে উভয়ই ধ্বংস হয়ে যেতো। (২১:২২)
  • এটা আল্লাহর সৃষ্টি নৈপুণ্য, যিনি সবকিছুকে করেছেন যথাযথ। (২৭:৮৮)
  • তারা কি কুরআন সম্বন্ধে গবেষণা করে না? আর যদি তা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো পক্ষ থেকে হতো তবে অবশ্যই তারা এতে অনেক বৈপরীত্য দেখতে পেতো। (৪:৮২)
  • তিনিই সূর্যকে করেছেন দীপ্তিময় এবং চাঁদকে করেছেন আলোকময় আর তারজন্য নির্ধারণ করেছেন বিভিন্ন মনযিল যাতে তোমরা জানতে পারো বছরের গণনা এবং (সময়ের) হিসাব। আল্লাহ এগুলো অবশ্যই যথার্থভাবে সৃষ্টি করেছেন।… ( ১০:৫)

একত্ববাদের মূলনীতির উপর অবিচল বিশ্বাস একজন গবেষককে প্রকৃতির বিচ্ছিন্ন অংশগুলোর পরিবর্তে একে একটি সামগ্রিক সত্তা হিসেবে দেখার প্রেরণা দেয় এবং তাঁকে প্রাকৃতিক জগতের সিশৃঙ্খল বিন্যাস ও সংহতি ব্যাখ্যা করতে সক্ষম করে তোলে।

অন্যদিকে, প্রকৃতির মাঝে শৃঙ্খলা ও সমন্বয়ের উপস্থিতিতে দৃঢ় বিশ্বাস না থাকলে বৈজ্ঞানিক গবেষণার কোনো সার্বজনীন তাৎপর্য থাকবে না এবং বড়জোর এর কেবল একটি সাময়িক গুরুত্ব থাকবে।

এমন কিছু বিজ্ঞানী আছেন যারা আল্লাহর একত্ববাদের মূলনীতিতে বিশ্বাস না করে অথবা সেদিকে মনোযোগ না দিয়েই প্রকৃতির মাঝে শৃঙ্খলা ও সমন্বয়ের অস্তিত্বে বিশ্বাস করেন; কিন্তু আমাদের মতে, তাওহীদ বা একত্ববাদে বিশ্বাস ছাড়া মহাবিশ্বের এই সুশৃঙ্খল বিন্যাসের কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া সম্ভব নয় ।

২। বহির্বিশ্বের বাস্তবতা

আমরা আগে যেমন উল্লেখ করেছি, কুরআনের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী মানুষের চেতনার বাইরে একটি প্রকৃত বাহ্যিক জগত বিদ্যমান, যা পর্যবেক্ষকের (মানুষের) ওপর নির্ভরশীল নয়।

  • আর আল্লাহ তোমাদেরকে নির্গত করেছেন তোমাদের মাতৃগর্ভ হতে এমন অবস্থায় যে, তোমরা কিছুই জানতেনা, এবং তিনি তোমাদেরকে দিয়েছেন শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি এবং হৃদয় (১৬:৭৮)
  • যিনি যমীনকে তোমাদের জন্য শয্যা বানিয়েছেন এবং তাতে তোমাদের জন্য বানিয়েছেন চলার পথ, যাতে তোমরা সঠিক পথ পেতে পার।যিনি আকাশ থেকে পরিমিত পানি বর্ষণ করেন যা দিয়ে তিনি মৃত ভূ-ভাগকে সঞ্জীবিত করেন। এভাবেই তোমাদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে। আর যিনি সব কিছুই জোড়া জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি তোমাদের জন্য নৌযান ও গৃহপালিত জন্তু সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা আরোহণ কর (৪৩:১০-১২)

একটি বস্তুনিষ্ঠ বা প্রকৃত জগতের অস্তিত্বে বিশ্বাসই হলো সকল পদার্থবিদ্যা ও প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের মূল ভিত্তি; এটি ছাড়া যেকোনো বৈজ্ঞানিক প্রচেষ্টা কেবল একটি খেলা বা নিরর্থক বিনোদনে পরিণত হবে। এই বিশ্বাসই সবসময় বিজ্ঞানীদের কর্মতৎপরতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে। বিজ্ঞানী প্ল্যাঙ্ক এই বিষয়টি অত্যন্ত চমৎকারভাবে ব্যক্ত করেছেনঃ

“কেপলার, নিউটন, লাইবনিজ এবং ফ্যারাডের মতো অত্যন্ত প্রতিভাবান ও মৌলিক চিন্তাধারার মানুষেরা বাহ্যিক জগতের বাস্তবতা এবং এর ভেতরে ও ঊর্ধ্বে বিদ্যমান এক উচ্চতর প্রজ্ঞার শাসনে বিশ্বাসী ছিলেন, যা তাঁদের অনুপ্রাণিত করেছিল।”

৩। মানুষের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতাঃ

আমরা কুরআন থেকে শিখতে পারি যে: মানুষের জ্ঞান অত্যন্ত সীমাবদ্ধঃ

তোমাকে তারা রূহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বল, ‘রূহ হচ্ছে আমার প্রতিপালকের হুকুমের অন্তর্ভুক্ত। এ সম্পর্কে তোমাকে অতি সামান্য জ্ঞানই দেয়া হয়েছে। (১৭:৮৫)

  • আমি কসম করছি সে সব জিনিসের যা তোমরা দেখতে পাও। (৬৯:৩৮-৩৯)
  • আল্লাহই উর্ধ্বদেশে আকাশমন্ডলী স্থাপন করেছেন স্তম্ভ ব্যতীত, তোমরা এটা দেখছ। (১৩:০২)
  • পবিত্র ও মহান সে সত্তা যিনি সকল জোড়া জোড়া সৃষ্টি করেছেন, যমীন যা উৎপন্ন করেছে তা থেকে, মানুষের নিজদের মধ্য থেকে এবং সে সব কিছু থেকেও যা তারা জানে না । (৩৬:৩৬)
  • এটি সেই গ্রন্থ যার মধ্যে কোন সন্দেহ-সংশয়ের অবকাশ নেই; ধর্ম-ভীরুদের জন্য এ গ্রন্থ পথনির্দেশ। যারা অদৃশ্য বিষয়গুলিতে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সালাত প্রতিষ্ঠা করে এবং আমি তাদেরকে যে রিযিক প্রদান করেছি তা হতে দান করে থাকে। (২:২-৩)

মানুষের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা এবং অদৃশ্যের প্রতি বিশ্বাস আমাদের জন্য একটি উদ্দীপক, যাতে আমরা আমাদের মনকে কেবল ইন্দ্রিয়লব্ধ পর্যায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রাখি এবং কখনোই এমনটা না ভাবি যে আমরা সবকিছু আবিষ্কার করে ফেলেছি।

The Principle of Causality (কার্যকারণ নীতি)

এই নীতিটি বলে যে প্রতিটি ঘটনারই একটি কারণ থাকে। এই নীতির দুটি গুরুত্বপূর্ণ অনুসিদ্ধান্ত রয়েছে:
১. নিশ্চয়তাবাদ নীতি: প্রতিটি কারণের একটি ফলাফল থাকে এবং কারণ ছাড়া কোনো ফলাফল পাওয়া অসম্ভব।
২. প্রকৃতির অভিন্নতা নীতি: একই ধরনের কারণ সর্বদা একই ধরনের ফলাফল নিশ্চিত করে।

সব সময়ের/সর্বকালের অনেক বিজ্ঞানীদের মাঝেই এই দীর্ঘকালীন ধারণা বিদ্যমান যে, আমাদের এই ভৌত মহাবিশ্ব কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম দ্বারা পরিচালিত। কার্যকারণ নীতি (The principle of causality) হলো এমন একটি স্বতঃসিদ্ধ বা ভিত্তি, যা প্রাকৃতিক ঘটনা ব্যাখ্যায় ব্যবহৃত যেকোনো নিয়মের প্রয়োগকে অর্থবহ করে তোলে।

কুরআনে আমরা বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে এই নীতির (কার্যকারণ নীতি) উল্লেখ খুঁজে পাই।
কুরআনে এমন বেশ কিছু আয়াত রয়েছে যা মহাবিশ্বে আল্লাহর অপরিবর্তনীয় রীতিনীতি বা নিদর্শন সম্পর্কে আলোকপাত করেঃ

  • তাহলে কি তারা প্রতীক্ষা করছে পূর্ববর্তীদের প্রতি প্রযুক্ত বিধানের? কিন্তু তুমি আল্লাহর বিধানের কখনও কোন পরিবর্তন পাবেনা এবং আল্লাহর বিধানের কোন ব্যতিক্রমও দেখবেনা। (৩৫:৪৩)
  • এটাই আল্লাহর প্রকৃতি, যে প্রকৃতি তিনি মানুষকে দিয়েছেন, আল্লাহর সৃষ্টি কার্যে কোন পরিবর্তন নেই (৩০:৩০)
  • আমি মানুষকে মাটির নির্যাস থেকে সৃষ্টি করেছি। (২৩:১২)
  • (তিনি) আসমান থেকে নাযিল করেছেন বৃষ্টি। অতঃপর তাঁর মাধ্যমে উৎপন্ন করেছেন ফল-ফলাদি, তোমাদের জন্য রিযিক স্বরূপ। (২:২২)
  • আর তিনি তাদের বিরুদ্ধে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি প্রেরণ করেছিলেন।  যারা তাদের উপর পাথরের কাঁকর নিক্ষেপ করেছিল।  (১০৫:৩-৫)
  • তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ কর। আল্লাহ তোমাদের হাতে তাদেরকে শাস্তি প্রদান করবেন (৯:১৪)

অপরদিকে, কুরআনে এমন কিছু আয়াত রয়েছে যা জগতের সৃষ্টি এবং পরিচালনার দায়িত্ব সরাসরি আল্লাহর প্রতি আরোপ করে।

  • বল, ‘আসমানসমূহ ও যমীনের রব কে’? বল, ‘আল্লাহ’।  (১৩:১৬)
  • যিনি সকল সৃষ্টির রব। (৭:৫৪)

এই দুই ধরনের আয়াতকে একত্রে বিচার করলে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় যে, সবকিছুই আল্লাহর ইচ্ছায় সম্পন্ন হয়, তবে তা নির্দিষ্ট কিছু মাধ্যম বা কারণের (channels) মধ্য দিয়ে। নিচের এই ধরনের আয়াতগুলো এই ব্যাখ্যাকেই নিশ্চিত করেঃ

  • উৎকৃষ্ট ভূমি তার প্রতিপালকের নির্দেশে বৃক্ষলতা উৎপাদন করে, আর নিকৃষ্ট যমীন থেকে কঠিন পরিশ্রম না করলে কিছুই উৎপন্ন হয় না। (৭:৫৮)

এই আয়াতটি নির্দেশ করে যে, যদিও গাছপালার বৃদ্ধির জন্য আল্লাহর ইচ্ছা আবশ্যক, তবুও ভূমির উর্বরতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সব ধরনের মাটিতে সব ধরনের গাছ জন্মানো সম্ভব নয়।

“আশআরি মতবাদের (Asharite school) কিছু প্রখ্যাত মুসলিম ধর্মতত্ত্ববিদ (যেমন ইমাম গাজ্জালি এবং ইমাম রাজি) ভৌত জগতের এই অনিবার্য কার্যকারণ সম্পর্ক (determinism) প্রত্যাখ্যান করেছেন। তারা বলেছেন যে, প্রাকৃতিক ঘটনাগুলো ঘটার পেছনে জাগতিক বা ভৌত মাধ্যমগুলোর আসলে কোনো ভূমিকা নেই।

যেকোনো ঘটনার মূল কারণ হলো আল্লাহর ইচ্ছা। তবে আল্লাহর অভ্যাস (সুন্নত) হলো এমন যে, তিনি আমাদের ভাষায় যাকে ‘কারণ’ বলি, তার ঠিক পরেই আমাদের ভাষায় যাকে ‘ফলাফল’ বলি সেটি সৃষ্টি করেন। কিন্তু এ দুটির মধ্যে এমন কোনো অনিবার্য সম্পর্ক নেই যা ফলাফলটিকে আবশ্যিকভাবে কারণের অনুগামী হতে বাধ্য করবে। আল্লাহ যদি না চান, তবে তথাকথিত সেই কারণটির পরে তথাকথিত সেই ফলাফলটি আর ঘটবে না।

এই ধর্মতত্ত্ববিদরা নিশ্চয়তাবাদ (determinism) অস্বীকার করেছিলেন কারণ তারা মনে করতেন যে, অনিবার্য কার্যকারণ সম্পর্ক মেনে নিলে আল্লাহর অসীম ক্ষমতা ক্ষুণ্ণ হবে এবং অলৌকিক ঘটনার (miracles) কোনো অবকাশ থাকবে না। তবে এই সিদ্ধান্তটি সঠিক নয়; কারণ সাধারণভাবে আমরা যাকে ‘কারণ’ বলি, তা মূলত একটি মধ্যস্থতাকারী বা প্রস্তুতিমূলক কারণ মাত্র, প্রকৃত কার্যকর কারণ (efficient cause) নয়।

মধ্যস্থতাকারী মাধ্যমগুলোর ভূমিকা হলো প্রতিটি সৃষ্টির জন্য ক্ষেত্র প্রস্তুত করা; তবে তিনি (আল্লাহ) সবকিছুই সুনির্দিষ্ট মধ্যস্থতাকারী ও প্রস্তুতিমূলক কারণের মাধ্যমেই সৃষ্টি করেন, আর এই মাধ্যমগুলোও আল্লাহরই সৃষ্টি। এই মাধ্যমগুলোর উপস্থিতির প্রয়োজনীয়তা স্রষ্টার কোনো সীমাবদ্ধতার কারণে নয়, বরং আল্লাহর অনুগ্রহ গ্রহণকারীর সীমাবদ্ধতার সাথে সম্পর্কিত।

পদার্থবিজ্ঞানে কোয়ান্টাম তত্ত্বের আবির্ভাব এবং ১৯৩০-এর দশকে ডব্লিউ. হাইজেনবার্গ কর্তৃক অনিশ্চয়তা নীতি (Principle of Uncertainty) উপস্থাপনের পর, এই তত্ত্বের কিছু প্রতিষ্ঠাতা পারমাণবিক জগতে নিশ্চয়তাবাদ (Determinism) এবং প্রকৃতির অভিন্নতা নীতিকে অস্বীকার করেন। তাঁদের মতে, ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণা বা মাইক্রোফিজিক্সের সমস্ত নিয়মই পরিসংখ্যানগত (Statistical); যা অসংখ্য সদৃশ পর্যবেক্ষণের গড় থেকে পাওয়া এবং যেখানে একক ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ঘটার অবকাশ থাকে।

প্ল্যাঙ্ক এবং আইনস্টাইনের মতো কিছু প্রখ্যাত বিজ্ঞানী বাদে অধিকাংশ পদার্থবিজ্ঞানীই এই নতুন তত্ত্ব এবং এর প্রচলিত (orthodox) ব্যাখ্যা গ্রহণ করে নিয়েছেন। এই পরিস্থিতি আজও বিদ্যমান, যদিও সময়ের সাথে সাথে এই ব্যাখ্যার বিরোধিতাকারীদের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে।

আইনস্টাইন, প্ল্যাঙ্ক এবং অন্যান্য প্রখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানীরা এটা মেনে নিতে পারেননি যে, এই মহাবিশ্ব সম্ভাব্যতার নিয়ম (Laws of probability) দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। তাঁদের মতে, প্রকৃতির প্রতিটি ঘটনাকে শেষ পর্যন্ত পরম বা সুনির্দিষ্ট নিয়মের (Absolute laws) মাধ্যমে ব্যাখ্যা করতে হবে এবং এই আপাতদৃষ্টিতে দেখা যাওয়া পরিসংখ্যানগত আচরণের মূলে একটি নিশ্চয়তাবাদী ভিত্তি (Deterministic foundation) থাকা উচিত। মানুষ সম্ভাব্যতার নিয়ম তখনই ব্যবহার করে, যখন হয় এর পেছনের মূল নিয়মগুলো সঠিকভাবে জানা থাকে না, অথবা বিশাল সংখ্যক তথ্য বা উপাত্ত নিয়ে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

এই বিষয়ে আইনস্টাইন নিম্নোক্ত মন্তব্যটি করেছিলেন:
‘আমি এটি স্বীকার না করে পারছি না যে, আমি এই ব্যাখ্যাকে (কোয়ান্টাম মেকানিক্সের প্রচলিত ব্যাখ্যা) কেবল একটি সাময়িক গুরুত্ব দিচ্ছি। আমি এখনও বাস্তবতার এমন একটি মডেল বা তত্ত্বের সম্ভাবনায় বিশ্বাস করি, যা কেবল ঘটনার সম্ভাবনাকেই প্রকাশ করবে না, বরং বিষয়গুলোকে তাদের আপন সত্তায় উপস্থাপন করবে।’

এবং ১৯২৬ সালের ডিসেম্বরে ম্যাক্স বর্ন-কে লেখা চিঠিতে আইনস্টাইন লিখেছিলেন:
‘কোয়ান্টাম মেকানিক্স অবশ্যই অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক। কিন্তু আমার অন্তরের এক কণ্ঠস্বর আমাকে বলছে যে, এটি এখনও সেই আসল সত্যটি নয়। এই তত্ত্ব অনেক কিছুই বলে, কিন্তু এটি আমাদের সেই ‘মহান সত্তার’ (স্রষ্টা) রহস্যের খুব একটা কাছে নিয়ে যায় না। যাই হোক না কেন, আমি অন্তত নিশ্চিত যে—তিনি (ঈশ্বর) পাশা খেলেন না।’

দুর্ভাগ্যবশত, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমরা এমন কিছু মুসলিম পণ্ডিতের দেখা পাই যারা আশআরিদের (Ash’arites) সেই পরিত্যক্ত মতবাদকে পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছেন এবং তাদের দাবির প্রমাণ হিসেবে কোয়ান্টাম মেকানিক্সকে ব্যবহার করছেন। আমরা এই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গিকে নিম্নলিখিত যুক্তিতে খণ্ডন করিঃ
আমরা যদি পারমাণবিক এবং উপ-পারমাণবিক (atomic and subatomic) জগতে কার্যকারণ নীতির বৈধতা অস্বীকার করি, তবে এর অর্থ হবে সমগ্র জগতের প্রেক্ষাপটে এই নীতিটিকে বিকৃত বা অকেজো করে দেওয়া; কারণ কার্যকারণ নীতি জগতের বিভিন্ন অংশকে একে অপরের সাথে সংযুক্ত করে।”

যদি কার্যকারণ নীতি (Principle of Causality) মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়, তবে একটি যুক্তির ভূমিকা (premises) এবং এর উপসংহারের (conclusion) মধ্যে কোনো সম্পর্ক থাকবে না; কারণ ভূমিকাই হলো কারো কোনো উপসংহার মেনে নেওয়ার ‘কারণ’। কার্যকারণ নীতি ছাড়া কোনো কিছুই কোনো যুক্তির উপসংহার হতে পারে না এবং যেকোনো ভূমিকা থেকে যেকোনো উপসংহার টেনে আনা সম্ভব হবে। তখন কোনো কিছু প্রমাণ করা এবং প্রমাণ না করার মধ্যে আর কোনো পার্থক্য থাকবে না।”

ঠিক এই কারণেই, যারা কার্যকারণ নীতিকে (principle of causality) অস্বীকার করেন, তারাও পরোক্ষভাবে এই নীতিটিই ব্যবহার করছেন। কারণ তারা যদি বিশ্বাস না করতেন যে তাদের দেওয়া ‘যুক্তি’ আমাদের বিশ্বাসের পরিবর্তনের ‘কারণ’ হবে, তবে তারা আমাদের সাথে তর্কে লিপ্ত হওয়ার চেষ্টাই করতেন না।

শহীদ অধ্যাপক মুর্তজা মোতাহারি ৭ এবং শহীদ আয়াতুল্লাহ সদর যেমনটা উল্লেখ করেছেন—পারমাণবিক জগতে ভবিষ্যতের সঠিক পূর্বাভাস দিতে না পারার কারণ নিশ্চয়তাবাদের (determinism) অভাব নয়; বরং এটি পারমাণবিক ঘটনাপ্রবাহ পরিচালনাকারী নিশ্চয়তাবাদের নিয়মগুলো সম্পর্কে আমাদের অজ্ঞতার ফল। এটি হতে পারে আমাদের বর্তমান পরীক্ষামূলক ও তাত্ত্বিক জ্ঞান অপূর্ণ থাকার কারণে, অথবা পর্যবেক্ষক তাঁর পরিমাপের ওপর যে প্রভাব ফেলেন তা আমরা নিখুঁতভাবে পরিমাপ করতে পারি না বলে।

যাই হোক না কেন, আমাদের এটি সচেতনভাবে মনে রাখা উচিত যে, পারমাণবিক জগতে নিশ্চয়তাবাদ (determinism) খুঁজে পেতে আমাদের ব্যর্থ হওয়ার অর্থ এই নয় যে সেখানে অনিবার্য কার্যকারণ সম্পর্ক বিদ্যমান নেই। এই জগতের সাথে সংশ্লিষ্ট সমস্ত পরামিতি বা প্যারামিটার (parameters) আমরা আবিষ্কার করে ফেলেছি এমন দাবি করার কোনো অধিকার আমাদের নেই।

এই পর্যায়ে ডিরাক ১৯৭৯ সালে যা লিখেছিলেন তা উদ্ধৃত করা সমীচীন মনে হচ্ছে:
‘এটি স্পষ্ট যে বর্তমান কোয়ান্টাম মেকানিক্স তার চূড়ান্ত রূপে নেই। এতে আরও কিছু পরিবর্তন প্রয়োজন হবে, যা বোর-এর কক্ষপথ থেকে কোয়ান্টাম মেকানিক্সে উত্তরণের মতোই আমূল (drastic) হবে। কোনো একদিন একটি নতুন আপেক্ষিক কোয়ান্টাম মেকানিক্স (relativistic quantum mechanics) আবিষ্কৃত হবে, যেখানে এই অসীম মানগুলোর (infinites) উদ্ভব ঘটবে না।’

এটি খুব সম্ভব যে, নতুন কোয়ান্টাম মেকানিক্সে আইনস্টাইনের কাঙ্ক্ষিত সেই নিশ্চয়তাবাদ (determinism) ফিরে আসবে। তবে এই নিশ্চয়তাবাদ তখনই সম্ভব হবে, যখন পদার্থবিজ্ঞানীরা বর্তমানে তাদের আঁকড়ে ধরা কিছু পূর্বধারণা (preconceptions) ত্যাগ করবেন; যা এই মুহূর্তে করার চেষ্টা করা হয়তো খুব একটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।

তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে আমি মনে করি এটি খুবই সম্ভাব্য, বা অন্ততপক্ষে যথেষ্ট সম্ভব যে, দীর্ঘমেয়াদে আইনস্টাইনই সঠিক প্রমাণিত হবেন; যদিও বর্তমান সময়ের জন্য পদার্থবিজ্ঞানীদের বোর-এর ‘সম্ভাব্যতা তত্ত্ব’ (probability interpretation) মেনে নিতে হচ্ছে বিশেষ করে যদি সামনে তাদের পরীক্ষা থাকে।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, কার্যকারণ নীতি (causality) অস্বীকার করলে কোনো কিছুই অন্য কিছুর জন্য আবশ্যক বা শর্ত হিসেবে থাকবে না এবং যেকোনো কিছু থেকে যেকোনো কিছু উদ্ভূত হতে পারবে; ফলে বিজ্ঞানের আর কোনো স্থান থাকবে না। বিজ্ঞানকে অবশ্যই তার সমস্ত অনুসিদ্ধান্তসহ কার্যকারণ নীতিকে গ্রহণ করতে হবে, যাতে বিজ্ঞানের নিজস্ব অস্তিত্ব অর্থবহ হয়ে ওঠে।

তথ্যসূত্র

১। Albert Einstein, Ideas and Opinions, trans. Sonja Bargman. New York, Crown Publishers (1954), pp. 322-323
২। Max Planck, The New Science (1959), p. 250.
৩। Sadr al-Din Shiriizi, Asfar, vol. 6, p. 371.
৪। Ideas and Opinions by Albert Einstein, p. Zl6.
৫। Einstein, A Centenary iblume, p. 310.
৬। Averroes, Tahafut al-Tahafut (The Incoherence of the Incoherence), trans. S. Van den Bergh, London, Luzac & Co., 1954, pp. 316-319.
৭। M. H. Tabatabai, Usul Falsafah. vol. 3, p. 217 (Mutahhari’s footnote).
৮। M. B. Sadr, Falsafatuna, Dar al.:faaruf Beirut, 1980, pp. 305-309.
৯। Some Strangeness in the Proportion, Woolf ed. Addison-Wesley, p. 65.

Source URL:
https://www.al-islam.org/al-tawhid/vol2-no1-muharram-1405-ah/philosophy-science-quranic-perspecti ve-mehdi-golshani#comment-0

Links
[1] https://www.al-islam.org/printpdf/book/export/html/39388
[2] https://www.al-islam.org/printepub/book/export/html/39388
[3] https://www.al-islam.org/printmobi/book/export/html/39388
[4] https://www.al-islam.org/person/mehdi-golshani
[5] https://www.al-islam.org/organization/al-tawhid-islamic-journal
[6] https://www.al-islam.org/tags/philosophy
[7] https://www.al-islam.org/tags/science
[8] https://www.al-islam.org/tags/quran

অনুবাদঃ হুমায়রা তাবাসসুম।

Tagged

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *