গোটা দুনিয়া জুড়েই মুসলমানরা সংকটপূর্ণ অবস্থার মধ্যে বসবাস করছে। খেলাফত ব্যবস্থার পতনের পর অর্থনৈতিকভাবে অধিকাংশ অঞ্চলের মুসলমানরাই দুরাবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। যাদের অবস্থা ভাল তারা বিদেশী শক্তির হাতে আছে।
এহেন অবস্থায় বাংলাদেশও এক দরিদ্রপিড়িত অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একদিকে বেকারত্ব, দরিদ্র্যতা বাড়ছে, অন্যদিকে কমছে ইসলামের সঠিক শিক্ষার প্রসারতা। রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও ব্যক্তি পর্যায়ের নানা উদ্যোগের সাথে সাথে আজকের এ সময়ে এসে আমাদের নতুন এক ওয়াকফ আন্দোলনের সূচনা করা প্রয়োজন। ওয়াকফের যে গুরুত্ব, তা আজকের দিনে আমাদের রাষ্ট্র, সমাজ থেকে হারিয়ে গেছে। অথচ ইসলামী সভ্যতার ইতিহাসে ওয়াকফ বরাবরই একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। ইসলামী শিক্ষার ব্যাপক বিস্তৃতি ও অগ্রসরতার পেছনে ওয়াকফের রয়েছে বিশাল অবদান। সুতরাং ইসলামী সভ্যতার পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য সামগ্রিক আন্দোলনসমূহকে বেগবান করতে এ গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রটিতে আমাদের বিশেষভাবে নজর দেয়া প্রয়োজন।
ওয়াকফের নীতি হলো, যেকোনো ব্যক্তি স্ব-প্রণোদিত হয়ে তার নিজ সম্পত্তির একটি অংশ আল্লাহর ওয়াস্তে দিতে পারে এবং দাতা চাইলে বলে দিতে পারবে সে সম্পদ কীভাবে ব্যবহৃত হবে, কী কাজে ব্যবহৃত হবে। ওয়াকফ সব সময় ভালো কাজেই ব্যবহার করা যায়, মন্দ কাজে ব্যবহার করা যায় না। ওয়াকফ যিনি করেন, তিনিই ওয়াকফ কীভাবে চলবে তার নির্দেশ দিয়ে থাকেন। তার ব্যবস্থাপনা কৌশল বলে দেন। কমিটির মাধ্যমে বা কীভাবে ওয়াকফ পরিচালিত হবে, এ নির্দেশ তিনি দিতে পারেন।
ইসলামের সূচনাকালেই ওয়াকফ শুরু হয়। মুসলমানগণ তাদের সম্পত্তির একটি অংশ আল্লাহর রাস্তায় দিয়ে যেতেন। এটি একটি স্বাভাবিক চর্চা ছিল। এই দান বা ওয়াকফের সম্পদ কীভাবে ব্যয় হবে তা দানকারী বলে দিতেন। যেমন- এর মাধ্যমে সেখানে সরাইখানা করা হতো যেখানে পর্যটকেরা থাকতে পারতেন। যারা মুসাফির হয়ে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতেন তারা থাকতে পারতেন। সে সময় বহু হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়েছিল। সেসব ছোট-বড়-মাঝারি বিভিন্ন ধরণের তৈরি হয়েছিল। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় সব কিছুই ওয়াকফের মাধ্যমে পরিচালিত হতো। ওয়াকফের ফান্ড থেকে ছাত্রবৃত্তির ব্যবস্থা চালু ছিল। সমাজের যত এতিম ছিল তাদের জন্য ওয়াকফের মাধ্যমে এতিমখানা প্রতিষ্ঠা করা হতো। সমাজের দুস্থ শ্রেণির শিশুদের জন্য একটি পূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থা এবং তাদের ভরণপোষণের সব রকম ব্যবস্থা এই ওয়াকফ ফান্ড থেকে করা হতো। অর্থাৎ বলতে গেলে তখন ওয়াকফের একটি বিরাট সামাজিক ভূমিকা ছিল, গুরুত্বও ছিল।
ঐতিহাসিক বিচারে আমরা দেখতে পাই, মধ্য এশিয়ার ইতিহাস পড়ে আমি দেখেছি, মধ্য এশিয়া বিশেষ করে তাতারিস্তান, বশখিরিয়া, ভলগা-উরাল অঞ্চলের মতো রাশিয়ার মুসলিম অঞ্চল অথবা মধ্য এশিয়ার যেসব অঞ্চল এক সময় রাশিয়া দখল করে নিয়েছিল। সেসব জায়গায় ওয়াকফের সম্পত্তির পরিমাণ ছিল তাদের ভূখণ্ডের প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ। এত বিপুল সম্পত্তি ওয়াকফের অধীনে থাকার কথা ইতিহাস সাক্ষী দেয়। তখন মূল সম্পদ হিসেবে ভূসম্পত্তিকেই ধরা হতো। এটা আজ থেকে চার-পাঁচ শ’ বছর আগের কথা। এটা শিল্প বিপ্লবের বহু আগের কথা। সে সময় সম্পদ বলতে বোঝাত এক দিকে জায়গাজমি আর অন্য দিকে ব্যবসায়-বাণিজ্য। আমি Pall Mall Press, London থেকে প্রকাশিত Alexander Bennigsen and C. L Quelquejaz-Islam in the Soviet Union বইতে এ ব্যাপারে বিস্তর তথ্যাদি পড়ার পর যতদূর পড়াশুনা করেছি, ইসলামী সভ্যতায় ওয়াকফের বিষয়ে ঐতিহ্যের ইতিহাস পড়ে রিতিমতো অবাক হয়েছি। আবার ড. ওমর চাপরা তার Islam and the Economic Challenge বইয়ে বলেছেন, ওয়াকফের বিরাট গুরুত্ব রয়েছে এবং একসময় মুসলিম উম্মাহর ১০ থেকে ১৫ ভাগ সম্পদ ওয়াকফের অধীনে চলে এসেছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে কমিউনিস্টরা সোভিয়েত রাশিয়ার ক্ষমতা দখল করে সব সম্পত্তি রাষ্ট্রায়ত্ত করে নেয়। ফলে সেসব ওয়াকফের অধীনে যেসব স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, এতিমখানা, সরাইখানা বা হাসপাতাল পরিচালিত হতো তার সবই বন্ধ হয়ে যায়।
আমাদের দেশে একসময় ওয়াকফ সিস্টেম চালু ছিল। কিন্তু বর্তমানে আগ থেকে চলে আসা কিছু ওয়াকফ ছাড়া নতুন করে ওয়াকফের পরিমাণ ততটা বৃদ্ধি পাচ্ছে না। আমরা যদি সত্যিই সমাজের দুস্থ ও দরিদ্রদের জন্য ব্যবস্থা করতে চাই যারা সমাজে অসহায় ও বিত্তহীন, তাহলে আমাদের নতুন করে আবার ওয়াকফ আন্দোলন শুরু করতে হবে। নতুনভাবে এ আন্দোলনকে জাগরিত করা উচিত বলে আমি মনে করি। এটা সারা বিশ্বেই শুরু করা উচিত, বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বে এবং বাংলাদেশে।
আমাদের দেশের কথাই যদি বলা হয়; এখানে যাদের শত কোটি টাকা আছে বা প্রচুর সম্পদ আছে, তারা তাদের অর্থসম্পদ রেখে মারা গেলে সেই অর্থসম্পদে তাদের কী লাভ হবে? তারা তাদের সম্পদের একটি নির্দিষ্ট অংশ যেমন- তিন ভাগের এক ভাগ, চার ভাগের এক ভাগ কিংবা দশ ভাগের এক ভাগ ওয়াকফ করে যেতে পারেন। বাকি অর্থসম্পদ তাদের পরিবারের জন্য থাকবে। এর জন্য একেকজন একেক নামে ফাউন্ডেশন গঠন করে যাবেন। একজন করবে ‘ক’ অন্যজন করবে ‘খ’ ‘ক’ করবে ‘ক’ ফাউন্ডেশন, ‘খ’ করবে ‘খ’ ফাউন্ডেশন। আর এসবের যদি ওয়াকফ করা ২০. ২৫ কিংবা ৩০ কোটি টাকার সম্পদ থাকে তাহলে তা সমাজের জন্য বিরাট অর্থবহ বিষয় হয়ে উঠবে। এসব ওয়াকফের মূল সম্পদ নয়, আয় সমাজকল্যাণে ব্যবহৃত হবে। এভাবে যদি আমাদের দেশে ১০০, ২০০, ৩০০ ওয়াকফ ফাউন্ডেশন তৈরি হয় তাহলে তার কী বিপুল প্রভাব সমাজে পড়বে, ভাবা যায়?
যদি প্রশ্ন করি, এসব ফাউন্ডেশন কী করতে পারে? কোনো কোনো ফাউন্ডেশন হাসপাতাল করতে পারে, কেউ এতিমখানা করবে, কেউ স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠা করতে পারে। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা ইনস্টিটিউটও করতে পারে। ছাত্রছাত্রীদের জন্য স্কলারশিপের ব্যবস্থা করতে পারে। কোনো ফাউন্ডেশন হসপিটাল তৈরি করতে পারে, যেখানে কম পয়সায় মানুষ চিকিৎসা নিতে পারবে। লোকেরা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় এলে তাদের থাকার জায়গার অভাব, হোটেল খরচও দিতে পারে না, কষ্ট হয়; সেখানে অত্যন্ত কম ফি প্রদানের মাধ্যমে এমনকি বিনামূল্যে তাদের জন্য মুসাফিরখানার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। যেহেতু এটা ওয়াকফ প্রপার্টি, তাই ফ্রিও করা যেতে পারে। নাহলে খুব সামান্য ফি করা যেতে পারে। আবার কোনো ফাউন্ডেশন শুধু এমন হতে পারে যে, তারা বৃদ্ধনিবাস তৈরি করে বয়স্কদের রাখার ব্যবস্থা করবে। তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করবে। বিধবাদের দেখাশোনার জন্যও হতে পারে। এমনিভাবে বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সব অসহায়ের দেখার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এই ওয়াকফ কাজটি হবে যাকাতের অতিরিক্ত এবং যাকাত থেকে আলাদা। মানুষ যাকাত তো দেবেই, যাকাতের মাধ্যমেও দারিদ্র্য বিমোচনের বিরাট কাজ হতে পারে। আবার এসব ফাউন্ডেশনের মাধ্যমেও যাকাতকে অর্গানাইজ করা যায়। তারা ওয়াকফ ছাড়াও যাকাতের জন্য একটা স্পেশাল ফান্ডের ব্যবস্থা করতে পারে। প্রয়োজনে তা শুধু যাকাতের খাতেই ব্যয় হবে। সেটা কোনো সমস্যা হবে না। আর যাকাতের মাধ্যমেও বিপুল গরিব পরিবারকে স্বনির্ভরশীল করা যায়। আমাদের দেশে যাকাতকে প্রধানত স্বনির্ভর করার কাজে ব্যয় করা উচিত। তারপর মানুষের অনেক ঋণ থাকে, সেই ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করা উচিত। যাকাতের মাধ্যমে গরিব, মিসকিনদের ভাতা দেয়া উচিত। এটা বয়স্কভাতা বা বিধবাভাতা হতে পারে।
যাকাত আদায়ের পরিমাণ আমাদের সমাজে আগের তুলনায় বেড়েছে, তবে তা সঠিক পদ্ধতিতে হলে ভালো হতো। প্রত্যেক শিল্পপতিই আজ যাকাত দেন। তাই তাদের যাকাতের টাকা যদি তারা নিজেরা সঠিকভাবে ব্যয় করেন, তাহলেও তার প্রভাব সমাজে পড়বে। এই যাকাতের টাকা দিয়ে তারা বিপুল রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারেন। সমাজের বিধবাদের জন্য উত্তম ব্যবস্থা করতে পারেন। বিত্তহীন ও অসহায়দের জন্য ভাতা সিস্টেম করতে পারেন। আর এই যাকাতের সাথে যদি ওয়াকফ যোগ হয়, তাহলে তা দিয়ে কী বিরাট কাজই না হতে পারে সমাজে!
এজন্য আমি মনে করি, আমাদের দেশে নতুন করে একটি ওয়াকফ আন্দোলন প্রয়োজন। আমার আবেদনও থাকবে যারা সম্পদশালী, তারা একটি করে ফাউন্ডেশন তৈরি করবেন। তারা সব সম্পদ তাদের সন্তান বা পরিবারের জন্য না রেখে তার একটি নির্দিষ্ট অংশ ওয়াকফ করে দিয়ে এই ফাউন্ডেশনের জন্য রাখবেন। তারাই একটি কমিটি গঠন করবেন বা বলবেন কী ধরণের কমিটি হবে। কমিটির মাধ্যমেই ফাউন্ডেশন পরিচালিত হবে। নগদ টাকাই যে দিতে হবে, তার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। যেমন- কারো দশটা শিল্পপ্রতিষ্ঠান থাকলে তিনটা প্রতিষ্ঠান ওয়াকফ দিয়ে দিতে পারেন। এতে তিনটি কোম্পানি ওয়াকফে চলে গেল। এর অর্থ জমির আয় থেকে যেমন ব্যবস্থা তেমনি এই ওয়াকফ প্রতিষ্ঠান থেকেও আয় হবে। সেই শিল্পপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকবে ফাউন্ডেশন। সেখান থেকে যে আয় আসবে, তা সমাজকল্যাণ কাজে ব্যয় হবে। আবার একটা নতুন ধরণের ওয়াকফ মুভমেন্টে আমরা ব্যাপক সাড়া পেতে পারি। ক্যাশ ওয়াকফ, যা ইসলামী ব্যাংক চালু করেছে। যেকোনো সম্পদ ওয়াকফ করা যায়, ক্যাশ বা নগদ অর্থও সম্পদ। শিল্পপতি, ব্যবসায়ী ও ধনী ব্যক্তিরা ব্যাংকে ক্যাশ ওয়াকফ রাখতে পারেন। তারা যে টাকা ব্যাংকে ওয়াকফ হিসেবে রাখবেন তা ব্যয় করা যাবে না। শুধু আয়টা সমাজকল্যাণের কাজে ব্যয় করা সম্ভব। সম্পদ ওয়াকফকারী বলতেও পারেন কোন ক্ষেত্রে তার ওয়াকফের আয় ব্যয় করবেন। ব্যাংক এ ক্ষেত্রে মুতাওয়াল্লি বা পরিচালক হিসেবে কাজ করবে। এ ব্যবস্থাটিও জনপ্রিয় করা, ব্যাপকভাবে প্রচলন করা সময়ের দাবি।
এ প্রসঙ্গে বলতে হয়, বর্তমানে যে ওয়াকফ আছে তার পরিমাণ তেমন উল্লেখযোগ্য নয় এবং তা সুষ্ঠুভাবে চলছে না। আবার যাও আছে, তার যে ব্যবহার হতে পারত তা হচ্ছে না। এর জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতা আছে। আবার যারা এর মুতাওয়াল্লি তাদেরও ব্যর্থতা আছে। এসবই সত্য কথা। কিন্তু আমি ওয়াকফের কথা উল্লেখ করেছি তা কিছুটা নতুন ধরণের।
এটা একেকটা ফাউন্ডেশন ধরণের হবে বা ট্রাস্ট ধরণের হবে। ফাউন্ডেশন বা ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় তা পরিচালিত হবে। সেখানে একটা সিস্টেমেটিক ম্যানেজমেন্ট হবে। সেখানে প্রচলিত ওয়াকফের পরিণতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এখানে কোনো একক ব্যক্তি কর্তৃক অপব্যয়, অপব্যবহারের কোনো সুযোগ থাকবে না। আর বর্তমানে যেসব ওয়াকফ আছে তা খুব সামান্য এবং বাস্তবে এসব দিয়ে তেমন কিছুই হবে না। এগুলো যেমন আছে তাই থাকতে পারে। প্রকৃতপক্ষে বর্তমান ওয়াকফগুলো হলো কতগুলো দরগাকেন্দ্রিক, এর আয় সমাজের মানুষের খুব একটা কাজেও লাগছে না। কিছু ওয়াকফ মসজিদ পরিচালিত। পাশাপাশি এগুলো চলবে। কিছু ওয়াকফ চালাচ্ছে এতিমখানা, এটাও চলুক। অনেক মাদরাসা ওয়াকফ চালায়। কিছু কিছু ওয়াকফ মসজিদের খরচ বহন করে। এসব খুবই ভালো। এসব থেকে আমাদের যে নতুন প্রকৃতির ওয়াকফ তা হবে ভিন্ন ধরণের এবং অনেক উন্নত। এখানে মডার্ন করপোরেশন ধরণের ম্যানেজমেন্ট ব্যবহার করা হবে। ফাউন্ডেশন বা ট্রাস্ট যাকে বলা হয়, এখানে সেটাই ব্যবহার করা হবে। তখন এ ওয়াকফ দিয়ে অনেক ভালো কাজ করা সম্ভব হবে।
গত ১০০ বা ২০০ বছর আগে ঔপনিবেশিক শাসনামলেও কোনো ব্যক্তি কোনো মাদরাসাকে সম্পদ লিখে দিতেন, আকারও ছোট ছিল। সেটা কখনো বড় আকার ধারণ করেনি। আর সে যুগে শোষণের কারণে আজকের মতো এত সম্পদশালী ব্যক্তিও ছিলেন না। এখন অনেক পরিবারই ১০০, ২০০, ৫০০ কোটি টাকার মালিক। এদের থেকেই নতুনভাবে ওয়াকফের কথা চিন্তা করা সম্ভব। তবে আজকের যমানায় ব্যক্তি-ওয়াকফ খুব কম। সেটাও চলতে থাকবে। কিন্তু তার থেকে বর্তমান প্রস্তাবিত ফর্মে করা জরুরী। এর জন্য সরকারি আইন থাকবে, কেউ যেন এর অপব্যবহার বা অপচয় না করতে পারে। এটা প্রাইভেট-পর্যায়ে থাকবে। যিনি ওয়াকিফ তিনি বলে দেবেন কী কাজে, কীভাবে বা কোন কোন খাতে ওয়াকফের আয়-ব্যয় হবে। তিনি বলতে পারেন, কোন কাজে ব্যয় করা হবে। এর মানে হলো আসলে সব কাজেই ব্যয় করা যাবে। কিন্তু বাস্তবে সবাই সব কাজ করতে পারে না। কাজেই হাসপাতাল, কাউকে এতিমখানা বা স্কুল-কলেজ দিয়ে যেতে হবে। এটা নানা ধরণের হতে পারে। আমাদের দেশে তাই সার্বিকভাবে দারিদ্র্য বিমোচন এবং দুস্থদের সাহায্যের জন্য নতুন ধরণের ওয়াকফ বিরাট ভূমিকা পালন করতে সক্ষম।
বাংলাদেশে দ্বীনি দাওয়াত, বিভিন্ন কল্যাণকামী সংগঠন, অর্থনীতিতে কাজ করতে গিয়ে গত ৮০টি বসন্ত পার করেছি। এই সময়ে ব্যাপকহারে উপলব্ধি করছি।
এ অবস্থায় আমাদের অন্যতম দায়িত্ব একটি নতুন ওয়াকফ আন্দোলনের সূচনা করা, যা নতুনভাবে আমাদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় বিশাল প্রভাব রাখতে সক্ষম হবে। তাই আগামীতে সমাজ ও জ্ঞানের ক্ষেত্রে একটি স্থায়ী পরিবর্তনের সূচনা করতে হলে আমাদের নতুনভাবে একটি ওয়াকফ আন্দোলন শুরু করা অত্যাবশ্যক।
