পাশ্চাত্যের ভোগবাদ ও আত্মবিস্মৃতির সমালোচনা

চিন্তা ও দর্শন

মানবসভ্যতার ইতিহাস মূলত এক ধারাবাহিক আদর্শের লড়াই—আলো আর অন্ধকারের, আত্মসচেতনতা আর অনুকরণের, রূহানিয়াত আর বস্তুবাদের। আজকের পৃথিবীতে এই সংঘাত সবচেয়ে তীব্রভাবে দেখা যায় “আধুনিকতা” নামে এক পরস্পরবিরোধী ধারণার মধ্যে।

আমাদের সমাজে আধুনিকতা মানেই যেন পাশ্চাত্য অনুসরণ। কিন্তু আধুনিক হওয়া মানে কি নিজের ঐতিহ্যকে অস্বীকার করা? নিজের সংস্কৃতিকে অবমূল্যায়ন করা? না—আধুনিকতা মানে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা, কিন্তু আত্মপরিচয় হারিয়ে নয়, বরং আত্মপরিচয় ধারণ করে।

দুঃখজনকভাবে, আমাদের অনেকেই আধুনিকতার সংজ্ঞা খুঁজতে গিয়ে এক অচিন্তনীয় বিভ্রান্তিতে পড়ে গেছে। আমরা ভেবেছি, পশ্চিমা পোশাক পরলেই, ইংরেজি উচ্চারণ করলেই, বা তাদের সামাজিক আচরণ অনুকরণ করলেই আমরা আধুনিক হয়ে যাব। অথচ এই “তথাকথিত আধুনিকতা” হচ্ছে আত্মবিস্মৃতির এক সুচারু সংস্করণ। এটি এমন এক ছদ্মবেশ, যা আমাদের ইতিহাস, ভাষা, ধর্ম ও মূল্যবোধকে ধীরে ধীরে ক্ষয় করে দিচ্ছে।

আজকের পশ্চিমা সভ্যতা প্রযুক্তিগতভাবে যতটা উন্নত, নৈতিকভাবে ততটাই শূন্য। তাদের উন্নয়ন যেন এক চকচকে মরুভূমি, যেখানে কৃত্রিম আলো আছে, কিন্তু নেই কোনো আত্মার উষ্ণতা। তারা চাঁদে পৌঁছেছে, কিন্তু নিজের হৃদয়ের গভীরে পৌঁছাতে ব্যর্থ। তারা মানুষের মস্তিষ্কের অণুস্তর বিশ্লেষণ করতে পারে, কিন্তু হৃদয়ের আকাঙ্ক্ষা বোঝার মতো রুহানিয়াতকে হারিয়েছে।

আল্লামা ইকবাল তাঁর বিখ্যাত বক্তৃতা “ইসলাম অ্যান্ড দ্য ওয়েস্ট”-এ বলেন,

“ইউরোপ আত্মার পরিবর্তে দেহের উন্নয়নকে বেছে নিয়েছে। ফলে সে পেয়েছে শক্তি, কিন্তু হারিয়েছে চিন্তার উচ্চতা ও অনুভূতির সূক্ষ্মতা।”

এই এক বাক্যে তিনি পশ্চিমা সভ্যতার মর্মান্তিক পরিণতি ব্যাখ্যা করেছেন। তাদের সভ্যতা বাহ্যিকভাবে উজ্জ্বল, কিন্তু অন্তরে মৃত। আর এই মৃত সভ্যতার চকমকে দুনিয়ায় আমরা আজ নিজেদের হারিয়ে ফেলছি—ধীরে ধীরে, কিন্তু নিশ্চিতভাবে।

পাশ্চাত্যের শিক্ষাব্যবস্থা মানুষকে জ্ঞানের গভীরতায় নয়, বরং তথ্যের ভাঁজে বন্দী করেছে। সেখানে “শিক্ষা” মানে আর আত্মউন্নয়ন নয়, বরং “পেশাগত প্রতিযোগিতা”। এই ভোগবাদী চিন্তা আমাদের দেহকে কর্মক্ষম করেছে, কিন্তু আত্মাকে শুষ্ক করে ফেলেছে।

আধ্যাত্মিকতা বা স্পিরিচুয়ালিটি—যা মানুষের মনকে পবিত্র করে, তাকে আল্লাহর নৈকট্যের পথে নিয়ে যায়—তা আজ ‘পুরোনো’, ‘অবৈজ্ঞানিক’, ‘অপ্রয়োজনীয়’ বলে বিবেচিত। অথচ আধ্যাত্মিকতা ছাড়া মানুষ আসলে কেবল এক উন্নত প্রাণী, প্রকৃত “মানুষ” নয়।

ইউরোপীয় সভ্যতা মানুষের মনকে আলোকিত করেনি, বরং আলোর ধারণাটিকেই কৃত্রিম করে তুলেছে। তারা “প্রগতি”কে মাপছে প্রযুক্তি দিয়ে, “সভ্যতা”কে মাপছে বিলাসিতা দিয়ে, আর “সাফল্য”কে মাপছে অর্থ দিয়ে। ফলাফল—মানুষ হয়ে পড়েছে সংখ্যায় পরিণত, হৃদয়ে নয়।

ইকবাল এই অবস্থা সম্পর্কে বলেন,

“তাদের বিজ্ঞান দিয়েছে শক্তি, কিন্তু কোন দিকনির্দেশনা নয়; শিল্প দিয়েছে সৌন্দর্য, কিন্তু কোনো উদ্দেশ্য নয়।”

এ যেন এক সভ্যতা, যা বাহ্যিকভাবে মহিমান্বিত কিন্তু আত্মায় দেউলিয়া।

আমাদের দুর্ভাগ্য হলো, আমরা এই শূন্য সভ্যতার মোহে পড়ে নিজেদের সোনালি অতীত ভুলে গেছি। উপনিবেশিক যুগে পাশ্চাত্য কেবল আমাদের দেশ শাসন করেনি, তারা আমাদের মনও দখল করেছে। তারা এমন এক মানসিক উপনিবেশ স্থাপন করেছে যার প্রভাব আজও আমরা বয়ে বেড়াচ্ছি।

আমরা ভুলে গেছি যে ইসলামী সভ্যতাই একসময় পৃথিবীর বৈজ্ঞানিক ও নৈতিক নেতৃত্ব দিত। বাগদাদ, দামেস্ক, আন্দালুস, কর্ডোভা—এই নামগুলো একসময় ছিল জ্ঞানের মক্কা। মুসলিম বিজ্ঞানীরা শুধু যন্ত্র আবিষ্কার করেননি, তারা জ্ঞানকে নৈতিকতায় সংযুক্ত করেছিলেন। তাদের কাছে “জ্ঞান” মানে ছিল আল্লাহর সৃষ্টির রহস্য অনুধাবনের উপায়, শুধু চাকরির যোগ্যতা নয়।

আমরা সেই উত্তরাধিকার বহন করছি, অথচ আজ আমরা পশ্চিমা আধুনিকতার দাসত্বে গর্ব অনুভব করি। আমাদের মিডিয়া, শিক্ষা, এমনকি পারিবারিক চিন্তাধারা—সব জায়গায় এক ধরনের “পশ্চিমা অনুমোদনপ্রীতি” কাজ করছে। আমরা নিজের কণ্ঠস্বর হারিয়ে অন্যের প্রতিধ্বনিতে মগ্ন।

যখন একটি জাতি তার আত্মপরিচয় হারায়, তখন সে কেবল সাংস্কৃতিকভাবে নয়, নৈতিকভাবেও ভেঙে পড়ে। আজ আমরা সেই ভাঙনের প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি। মানুষ আল্লাহর খলিফা হিসেবে সৃষ্ট, অর্থাৎ দায়িত্বপ্রাপ্ত সত্তা। কিন্তু আমরা সেই দায়িত্ব ভুলে গেছি। আমরা নিজেদেরকে কেবল ভোগী প্রাণীতে নামিয়ে এনেছি।

পাশ্চাত্যের অন্ধ অনুকরণে আমরা এমন এক জীবনব্যবস্থার অংশ হয়ে গেছি যেখানে মর্যাদা নয়, মুদ্রাই মাপকাঠি। মানুষকে মূল্যায়ন করা হয় তার চরিত্র নয়, তার ব্যাঙ্ক-ব্যালেন্স দিয়ে। এই বস্তুবাদী চিন্তাই ধীরে ধীরে আমাদের আত্মাকে নিঃশেষ করে দিচ্ছে।

আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেন—

“যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভুলে যায়, আল্লাহও তাকে নিজের অস্তিত্ব ভুলিয়ে দেন।”

(সূরা আল-হাশর, ৫৯:১৯)

এই আয়াত আজ আমাদের সমাজের নিখুঁত প্রতিচ্ছবি। আমরা আল্লাহকে ভুলে গিয়ে তথাকথিত প্রগতি খুঁজতে গিয়ে নিজেদের অস্তিত্বের সত্যকেই হারিয়ে ফেলেছি।

খাদ্য ও জীবনধারার ফাঁদ

আজকের পৃথিবীতে “খাদ্য” কেবল আহার নয়, এটি এক রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অস্ত্র। পাশ্চাত্য সভ্যতা এই অস্ত্রটি নিপুণভাবে ব্যবহার করছে—মানুষের দেহ, মস্তিষ্ক ও মনকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য। বহুজাতিক খাদ্য কোম্পানিগুলোর উদ্দেশ্য এখন আর কেবল ক্ষুধা মেটানো নয়; বরং মানুষের রুচি, আকাঙ্ক্ষা ও জীবনধারা নিয়ন্ত্রণ করা।

ফাস্টফুড, সফটড্রিংক, প্রসেসড ফুড—এসবের স্বাদে আমরা আনন্দ পাই, কিন্তু অজান্তেই শরীরে ঢুকিয়ে দিই ধীরে ধীরে কার্যকর এক “slow poison”। এই খাবারগুলো শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া (metabolism) ধ্বংস করে দেয়, ইনসুলিন প্রতিরোধ (insulin resistance) সৃষ্টি করে, যা থেকে জন্ম নেয় ডায়াবেটিস, স্থূলতা, হৃদরোগ, ক্যানসার ইত্যাদি। কিন্তু বিষয়টি শুধু শরীরের ক্ষতি নয়—এটি মনস্তাত্ত্বিক ও আধ্যাত্মিক বিপর্যয়ও ঘটায়।

কেননা খাদ্য শুধু দেহের শক্তি দেয় না, এটি আত্মার প্রশান্তি ও চিন্তার নির্মলতাকেও প্রভাবিত করে। ইসলামী দর্শনে “হালাল ও পবিত্র খাদ্য” কেবল ধর্মীয় বিধান নয়, এটি মনুষ্যত্বের পরিশুদ্ধতার ভিত্তি। কুরআনে আল্লাহ বলেন—

“হে মানুষ! তোমরা পৃথিবীর যা হালাল ও পবিত্র, তা খাও, এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না।”

(সূরা আল-বাকারা ২:১৬৮)

এখানে “শয়তানের পদাঙ্ক” মানে শুধু নৈতিক অবক্ষয় নয়—এটি এমন জীবনধারা, যা ধীরে ধীরে মানুষকে আল্লাহর স্মৃতি থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। পাশ্চাত্যের খাদ্যসংস্কৃতি সেই পথেই আমাদের নিয়ে যাচ্ছে।

খাবারকে তারা বানিয়েছে এক বাণিজ্যিক মায়াজাল। মানুষ যেন নিজের ক্ষুধা নয়, বিজ্ঞাপনের তৈরি আকাঙ্ক্ষার তাগিদে খায়। “ইটস নট ফুড, ইটস এ ব্র্যান্ড”—এই দর্শন আমাদের শিশুদের শেখানো হচ্ছে অজান্তেই। ছোটবেলা থেকে তারা এমন ব্র্যান্ডে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে, যেগুলো মস্তিষ্কে ডোপামিন নামের এক কেমিক্যালের অতিরিক্ত নিঃসরণ ঘটায়, যা আসক্তির জন্ম দেয়।

এইভাবে এক প্রজন্ম তৈরি হচ্ছে, যারা খাবার দিয়ে আনন্দ খোঁজে, চিন্তা নয়। কিন্তু ইসলামী চেতনায় খাদ্য সবসময় ছিল কৃতজ্ঞতার প্রতীক—“বিসমিল্লাহ” উচ্চারণের মাধ্যমে আমরা শুধু খাওয়া শুরু করি না, বরং আল্লাহর নেয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। পাশ্চাত্য সভ্যতা এই চেতনাটিকেই ধ্বংস করেছে। তারা খাবারকে বিনোদন বানিয়েছে, বরং ইবাদতের অনুভূতি কেড়ে নিয়েছে।

আবার জীবনধারার দিকেও একই ফাঁদ। নিদ্রাহীন রাত, সামাজিক মাধ্যমের দাসত্ব, ফ্যাশন আর ফিল্টারের সংস্কৃতি—সবই এক “আধুনিক কৃত্রিমতা”র চাদর। তারা আমাদের শরীরকে ক্লান্ত ও মনকে শূন্য করে দিচ্ছে। পশ্চিমা এই তথাকথিত “লাইফস্টাইল” ধীরে ধীরে আমাদের হৃদয়ের উপর এক অদৃশ্য আধিপত্য বিস্তার করছে।

আজ মানুষ নিজেকে “কুল” বা “স্মার্ট” প্রমাণ করতে গিয়ে নিজের রূহানিয়াতকে বিসর্জন দিচ্ছে। অথচ কুরআন বারবার সতর্ক করেছে:

“তোমরা পৃথিবীর জীবন দ্বারা প্রতারিত হয়ো না; এবং শয়তান যেন তোমাদের আল্লাহ সম্পর্কে প্রতারিত না করে।”

(সূরা লোকমান ৩১:৩৩)

এই আয়াত আজ যেন সরাসরি আমাদের জন্যই নাজিল। কারণ আমরা যে “প্রতারণা”র মধ্যে আছি, তা অতি সূক্ষ্ম—এটি বিজ্ঞাপন, গানের লিরিক, ফ্যাশন ট্রেন্ড ও খাবারের স্বাদের আড়ালে লুকানো।

আত্মপরিচয়ের সংকট

সবচেয়ে ভয়াবহ হলো, আমরা জানি—এই অনুসরণ আমাদের ক্ষতি করছে; তবুও আমরা তা ছাড়তে পারি না। কেননা আমরা হারিয়ে ফেলেছি আমাদের আত্মপরিচয়।

আত্মপরিচয় হারানো মানে কেবল ইতিহাস ভুলে যাওয়া নয়—এটি নিজের উদ্দেশ্য ও গন্তব্য ভুলে যাওয়া। আজ আমরা নিজেদের পরিচয় দিই পেশা দিয়ে, পোশাক দিয়ে, বা সামাজিক মিডিয়া প্রোফাইল দিয়ে; কিন্তু আল্লাহ আমাদের পরিচয় দিয়েছেন এক অসাধারণ মর্যাদায়—

“আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি শ্রেষ্ঠ অবয়বে।”

(সূরা আত-তীন ৯৫:৪)

এই শ্রেষ্ঠত্ব শুধু দেহের নয়, বরং বিবেক, রূহ ও খলিফাতুল্লাহ হিসেবে দায়িত্বের। কিন্তু আমরা সেই দায়িত্ব ভুলে গেছি।

আমরা ভেবেছি আধুনিকতা মানে পশ্চিমা জীবনধারা অনুকরণ করা। অথচ ইসলামের প্রথম যুগের সভ্যতা ছিল প্রকৃত আধুনিকতার প্রতীক—যেখানে জ্ঞান ও আখলাক, বিজ্ঞান ও রূহানিয়াত পাশাপাশি চলত। মুসলমানরা তখন বিশ্বের নেতৃত্ব দিয়েছিল কেবল শক্তি দিয়ে নয়, বরং চিন্তা, সংস্কৃতি ও ন্যায়ের আলো দিয়ে।

আজ আমরা সেই উত্তরাধিকার ভুলে গেছি। আমরা নিজেদের ইতিহাসের সন্তান হয়ে অন্যের সংস্কৃতির দাসে পরিণত হয়েছি। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পাশ্চাত্যের সিলেবাসের অনুবাদে ব্যস্ত, কিন্তু নিজেদের বৈজ্ঞানিক বা দার্শনিক ধারা বিকশিত করতে পারে না। আমাদের মিডিয়া নৈতিক সাহস শেখায় না; বরং বিদেশি ভাবধারার নকল করে হাসি তুলে দেয়। আমাদের শিশুরা নায়ক খোঁজে হলিউডে, নবী বা সাহাবাদের মধ্যে নয়।

এই আত্মপরিচয়হীনতা কেবল সাংস্কৃতিক নয়—এটি মানসিক দাসত্বের রূপ। উপনিবেশ চলে গেছে, কিন্তু উপনিবেশিক মানসিকতা রয়ে গেছে আমাদের ভেতর। আমরা এখনো পশ্চিমের চোখ দিয়ে নিজেদের দেখি। আমরা বিশ্বাস করি, পশ্চিম যা করে তাই “উন্নত”, আর আমাদের ঐতিহ্য মানেই “পিছিয়ে পড়া”।

এই মানসিকতার পরিবর্তন না হলে কোনো প্রযুক্তিগত উন্নয়নই জাতিকে উদ্ধার করতে পারবে না। কারণ উন্নয়ন তখনই অর্থবহ, যখন তা আত্মার উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত হয়। রূহানিয়াতবিহীন উন্নয়ন মানে কেবল এক যান্ত্রিক সমাজ, যেখানে মানুষ আছে, কিন্তু মানবিকতা নেই।

আল্লামা ইকবাল তাই বলেন,

“যে জাতি নিজের ইতিহাস ও আত্মাকে ভুলে যায়, সে জাতি অন্যের হাতের খেলনা হয়ে পড়ে।”

আজ আমরা সেই খেলনা হয়ে যাচ্ছি—বাজারের, মিডিয়ার, আর পাশ্চাত্যের সাংস্কৃতিক প্রভাবের। অথচ আমাদের ইতিহাস বলছে, আমরা একসময় সভ্যতার নির্মাতা ছিলাম, অনুকারক নয়।

ইসলামী সভ্যতার উত্তরাধিকার ও জাতিগত পতনের চিত্র

যখন আমরা ইসলামী সভ্যতার ইতিহাসে ফিরে তাকাই, তখন এক বিস্ময়কর বাস্তবতা সামনে আসে—পৃথিবীর সবচেয়ে আধুনিক, যুক্তিনির্ভর ও মানবিক সভ্যতা গড়ে তুলেছিল মুসলমানরা। আজ যে ইউরোপ বিজ্ঞানের গৌরবে উজ্জ্বল, তার শিকড় নিহিত আছে আন্দালুসের কর্ডোভা, বাগদাদের বায়তুল হিকমা, দামেস্ক, কায়রো ও সমরখন্দের গ্রন্থাগারগুলোতে।

আল-জাবিরের রাসায়নিক তত্ত্ব, ইবনে সিনার চিকিৎসাবিজ্ঞান, আল-বিরুনির জ্যোতির্বিজ্ঞান, ইবনে হাইথামের অপটিক্স, আল-খওয়ারিজমির গণিত ও অ্যালগরিদম—এই সবই পশ্চিমা সভ্যতার ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু আমরা ভুলে গেছি যে তাদের আধুনিকতা মূলত আমাদের আত্মিক ও বৈজ্ঞানিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিক ফল।

ইসলামী সভ্যতা কখনো কেবল মসজিদ বা মিনারে সীমাবদ্ধ ছিল না; এটি ছিল বুদ্ধিবৃত্তিক ও আধ্যাত্মিক বিপ্লবের এক সমন্বিত রূপ। সেই সভ্যতার ভিত্তি ছিল তিনটি স্তম্ভের উপর:

১) তাওহীদ — এক আল্লাহর একত্বে বিশ্বাস, যা মানুষের মনকে মুক্ত করে।

২) ইলম — জ্ঞান ও গবেষণাকে ইবাদত হিসেবে দেখা।

৩) আখলাক — নৈতিকতার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ, যেখানে ব্যক্তিস্বার্থ নয়, উম্মাহ্ ও মানবতার কল্যাণ মুখ্য।

এই তিন স্তম্ভের মিলনে মুসলমানরা এক এমন সভ্যতা নির্মাণ করেছিল, যেখানে বিজ্ঞান ও ধর্ম পরস্পরের বিরোধী ছিল না, বরং একে অপরের পরিপূরক ছিল। জ্যোতির্বিজ্ঞানী যেমন নামাজের সময় নির্ধারণ করতেন, চিকিৎসক যেমন রোগ নিরাময়কে খিদমতুল খাল্ক (সৃষ্টির সেবা) মনে করতেন—সেই সভ্যতার প্রতিটি কোষে ছিল ইবাদতের চেতনা।

এ কারণেই ইসলামী সভ্যতা কেবল প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নয়, নৈতিক উৎকর্ষেরও প্রতীক ছিল।

একটি উদাহরণই যথেষ্ট—যখন ইউরোপে চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের আগে গির্জার অনুমতি নিতেন, তখন মুসলিম চিকিৎসকরা ইতিমধ্যেই মানবদেহে অস্ত্রোপচারের নিয়মাবলি ও চিকিৎসা নৈতিকতা নির্ধারণ করেছিল।

কিন্তু আমরা, সেই ঐতিহ্যের উত্তরসূরিরা, আজ নিজেদেরকে পশ্চিমের নকল আধুনিকতায় আবদ্ধ করেছি। আমরা ভুলে গেছি যে ইসলামই প্রথম সেই সভ্যতা, যেখানে নারীকে শিক্ষিত করা ফরজ হিসেবে দেখা হয়, যেখানে জ্ঞান ছিল সবার জন্য উন্মুক্ত—মুসলিম, অমুসলিম, নারী, পুরুষ নির্বিশেষে।

তাহলে প্রশ্ন হলো—কোথায় হারালাম আমরা?

আমরা হারিয়েছি যখন তাওহীদের ধারণাকে কেবল তত্ত্বে সীমাবদ্ধ করে ফেললাম;

আমরা হারিয়েছি যখন ইলমকে ইবাদত নয়, চাকরির সিঁড়ি বানালাম;

আর হারিয়েছি যখন আখলাককে জীবন নয়, বক্তৃতার বিষয় বানালাম।

ইসলামী সভ্যতার প্রকৃত উত্তরাধিকার মানে শুধু ঐতিহাসিক গর্ব নয়—এটি এক দায়িত্ব। আমরা সেই মহান বংশের উত্তরসূরি, যারা জ্ঞানকে রূহের খাদ্য হিসেবে দেখেছিল, এবং জ্ঞানের আলো দিয়ে পৃথিবীকে আলোকিত করেছিল। কিন্তু আজ আমরা নিজেরাই সেই আলো থেকে দূরে সরে গেছি, পাশ্চাত্যের কৃত্রিম আলোর পেছনে ছুটছি।

কুরআনে আল্লাহ বলেন—

“আল্লাহ এমন এক জাতিকে পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেদের পরিবর্তন করে।”

(সূরা রা’দ ১৩:১১)

আমরা চাইলে আবারও পরিবর্তন আনতে পারি।

কিন্তু এজন্য প্রয়োজন, ইতিহাসের স্মৃতি নয়, ইতিহাসের চেতনাকে পুনর্জীবিত করা।

বাংলা একসময় ছিল বিশ্বসভ্যতার কেন্দ্র। মাটির উর্বরতা, নদীর সমৃদ্ধি, বাণিজ্যের বিস্তৃতি—সবকিছু মিলে এই অঞ্চলকে বলা হতো “সোনার বাংলা।”

কিন্তু আজ সেই বাংলাই যেন অন্ধকারে নিমজ্জিত।

আমাদের কৃষক, যিনি একসময় পৃথিবীর সেরা পাট ও ধান রপ্তানি করতেন, আজ বাঁচার জন্য সংগ্রাম করছেন। কৃষিবিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বেড়েছে, কিন্তু মাঠের কৃষকের ভাগ্য অপরিবর্তিত। প্রযুক্তি এসেছে, কিন্তু তা শহরে আটকে গেছে। গ্রামের কৃষক আজও জানে না কীভাবে সে তার উৎপাদিত পণ্য ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করবে।

অন্যদিকে চিকিৎসাব্যবস্থায় এক ভয়াবহ বৈষম্য তৈরি হয়েছে। রাজধানীতে কিছু উন্নত হাসপাতাল থাকলেও, প্রত্যন্ত অঞ্চলে আজও স্যালাইন, অক্সিজেন, এমনকি প্রাথমিক ওষুধেরও ঘাটতি। যে দেশে মানুষকে চিকিৎসা পেতে হাসপাতালের বারান্দায় কাতরাতে হয়, সে দেশে “আধুনিকতা” শব্দটি যেন এক ব্যঙ্গ।

শিক্ষাব্যবস্থার চিত্রও একইরকম করুণ। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গবেষণার কেন্দ্র নয়, বরং ডিগ্রি উৎপাদনের কারখানা হয়ে গেছে। ছাত্ররা জ্ঞানের জন্য নয়, চাকরির জন্য পড়ে; শিক্ষকরা চিন্তার জন্য নয়, পদোন্নতির জন্য গবেষণা করে। ফলাফল—জ্ঞান জন্ম নিচ্ছে না, জন্ম নিচ্ছে তথ্যের পুনরাবৃত্তি।

আমাদের জাতি এক অদ্ভুত দ্বন্দ্বে বন্দী। বাহ্যিক উন্নয়নের চাপে আমরা অভ্যন্তরীণ অবক্ষয় ভুলে গেছি। আধুনিক শহর গড়ছি, কিন্তু নোংরা রাজনীতি ও দুর্নীতির দুর্গন্ধে সেই শহরই বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে।

এই সবই মূলত এক চেতনার পতন।

যখন মানুষ আত্মার আহ্বান শোনে না, তখন সে বাহ্যিক সৌন্দর্যে ডুবে যায়।

যখন সমাজ আল্লাহভীতিহীন হয়, তখন আইন থাকলেও ন্যায় থাকে না।

যখন শিক্ষিত মানুষ রূহানিয়াত হারায়, তখন সে জ্ঞানকে ব্যবহার করে শোষণের অস্ত্র হিসেবে।

আমরা আজ সেই অবস্থায়। আমাদের হাসপাতাল, আদালত, বিশ্ববিদ্যালয়—সবই আছে, কিন্তু তাদের ভেতরের প্রাণ নেই।

যেখানে একসময় মুসলমানরা বিজ্ঞান, দর্শন, ও রাজনীতির নেতা ছিল, আজ তারা ভোগবাদে বন্দী;

যেখানে একসময় ইসলাম দিত স্বাধীনতার ডাক, আজ আমরা নিজের মনকেই দাস বানিয়েছি।

এই অবস্থা থেকে মুক্তি কেবল তখনই সম্ভব, যখন আমরা বুঝব—জাতি গঠনের মূল উপাদান প্রযুক্তি নয়, চেতনা।

যে জাতি আল্লাহর প্রতি আস্থা হারায়, সে জাতি যত শক্তিশালীই হোক না কেন, ধ্বংস অনিবার্য।

আর যে জাতি রূহানিয়াত ও আখলাকের উপর দাঁড়ায়, তাকে কেউ পরাজিত করতে পারে না।

আল্লাহ কুরআনে বলেন—

“যদি তোমরা আল্লাহর সাহায্য করো, তবে আল্লাহও তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের পদ দৃঢ় করবেন।”

(সূরা মুহাম্মদ ৪৭:৭)

এই আয়াত আজও আমাদের জন্যই এক পুনর্জাগরণের বার্তা।

বাংলার পুনর্জন্ম সম্ভব—যদি আমরা আবার ফিরে যাই সেই ইসলামী চেতনায়, যে চেতনা মানুষকে জ্ঞানী করে, ন্যায়পরায়ণ করে, এবং মুক্ত করে।

ইসলামী পুনর্জাগরণের পথ

জাতির উন্নয়ন শুরু হয় ধারণা থেকে—আর ধারণা শুরু হয় চেতনা থেকে।

আজ আমরা সেই চেতনার সংকটে ভুগছি। পাশ্চাত্য আমাদেরকে শিখিয়েছে যে উন্নয়ন মানে দালান, যন্ত্র, অর্থ ও ভোগ; কিন্তু ইসলাম আমাদের শেখায়—উন্নয়ন মানে আত্মার পরিশুদ্ধি, ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা, এবং জ্ঞানের বিস্তার।

ইসলাম মানুষকে নিষ্ক্রিয় বা অতীতমুখী হতে শেখায় না। বরং ইসলামই একমাত্র দীন, যা মানুষকে বলে—

“তুমি চিন্তা কর, পর্যবেক্ষণ কর, শিখো, সৃষ্টি কর।”

আল্লাহ বারবার কুরআনে বলেন—

“তারা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করে না, যাতে তারা চিন্তা করে?” (সূরা আল-হজ্জ ২২:৪৬)

অর্থাৎ চিন্তা করাটাই এক প্রকার ইবাদত।

কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য—আমরা চিন্তাকে ছেড়ে দিয়েছি অন্যের হাতে। আমরা ভেবেছি, ইসলাম মানে কেবল ইবাদত; অথচ ইসলাম মানে জীবনব্যবস্থা—এক পূর্ণ সভ্যতা, যেখানে অর্থনীতি, বিজ্ঞান, রাজনীতি, নৈতিকতা ও সংস্কৃতি—সব এক সূত্রে বাঁধা।

ইসলামের প্রথম যুগের সাহাবাগণ ও তাবেঈনরা এই নীতিকে বাস্তবে রূপ দিয়েছিলেন। তারা কেবল নামাজ, রোযা, হজ ও যাকাতে সীমাবদ্ধ ছিলেন না; তারা ছিলেন সমাজ-নির্মাতা, জ্ঞান-বিজ্ঞানচর্চার পথিকৃৎ, আর ন্যায় প্রতিষ্ঠার যোদ্ধা। তাদের জীবন ছিল এক জীবন্ত কুরআন।

আমরা যদি আবার সেই চেতনায় ফিরতে পারি, তবে আমাদের সমাজ, রাজনীতি, শিক্ষা—সবকিছুই নতুন আলোয় ভরে উঠবে।

১. চেতনার পুনর্গঠন: আত্ম-সচেতনতার জাগরণ

সবচেয়ে আগে প্রয়োজন আত্ম-পরিচয়ের পুনর্গঠন।

আমাদের জানতে হবে আমরা কারা, কেন সৃষ্টি হয়েছি, আর আমাদের লক্ষ্য কী। আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেন—

“আমি জিন ও মানুষকে সৃষ্টি করেছি কেবল আমার ইবাদতের জন্য।” (সূরা আয-যারিয়াত ৫১:৫৬)

এই ইবাদত শুধু নামাজ বা রোযায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং প্রতিটি সৎ কর্ম, প্রতিটি জ্ঞানচর্চা, প্রতিটি ন্যায় প্রতিষ্ঠার প্রয়াসই ইবাদত—যদি তা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করা হয়।

সুতরাং একজন প্রকৌশলী, চিকিৎসক, কৃষক বা লেখক—যে-ই হোক না কেন, তার কাজ যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হয়, তবে সেটিই ইবাদত।

এই ধারণা যদি সমাজে ছড়িয়ে যায়, তাহলে দুর্নীতি, অবহেলা, আত্মকেন্দ্রিকতা—সব দূর হয়ে যাবে। কারণ তখন কাজ আর কেবল বেতন বা লাভের জন্য হবে না; হবে দায়িত্ব ও আমানতের অনুভূতি থেকে।

২. শিক্ষার সংস্কার: ইলমকে আবার ইবাদত করা

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা এমনভাবে গড়ে উঠেছে যে, সেখানে জ্ঞানের উদ্দেশ্য চাকরি, নয় উন্নতি।

ইসলাম শেখায়—ইলম (জ্ঞান) হলো নূর বা আলো, যা মানুষকে আল্লাহর পথে পরিচালিত করে।

কিন্তু আজ সেই আলো নিভে গেছে।

আমাদের পাঠ্যবইগুলো পাশ্চাত্যের চিন্তার অনুলিপি, যেখানে “উন্নতি” মানে ভোগবাদ, “স্বাধীনতা” মানে সীমাহীন স্বার্থপরতা।

আমাদের দরকার এক নতুন শিক্ষাদর্শ—যেখানে বিজ্ঞান থাকবে, কিন্তু তা রূহানিয়াতের সাথে যুক্ত থাকবে;

যেখানে দর্শন থাকবে, কিন্তু তা নৈতিকতার ভিত্তিতে দাঁড়াবে;

যেখানে প্রযুক্তি থাকবে, কিন্তু তা মানবকল্যাণের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হবে।

আল-ফারাবি, ইবনে সিনা, ইবনে রুশদ—তাঁরা আমাদের শিখিয়েছিলেন, জ্ঞান মানে সেই আলো, যা কুরআনের ‘ইকরা’ (পড়) আদেশের প্রতিফলন।

আজ আমাদের শিক্ষা সেই ‘ইকরা’র চেতনা পুনরুদ্ধার করতে হবে—যেখানে শিখন কেবল দক্ষতা নয়, বরং আত্মজাগরণ।

৩. সমাজব্যবস্থার পুনর্গঠন: ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা থেকে উম্মাহ্ চেতনায়

আজকের বিশ্বব্যবস্থা দাঁড়িয়ে আছে এক নির্মম স্বার্থের উপর।

মানুষ আর মানুষকে ভাই হিসেবে দেখে না, দেখে প্রতিযোগী হিসেবে।

কিন্তু ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে, সমাজ কেবল চুক্তির সম্পর্ক নয়; এটি এক আখলাকি (নৈতিক) বন্ধন।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন—

“তোমরা এক দেহের মতো। দেহের কোনো অঙ্গ ব্যথিত হলে, সমগ্র দেহই জ্বালা অনুভব করে।” (সহীহ মুসলিম)

এই শিক্ষার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছিল মদিনার সমাজ—যেখানে মুসলিম ও অমুসলিম, ধনী ও দরিদ্র, আরব ও অনারব—সবাই ছিল সমান মর্যাদায়।

এটাই ইসলামী সভ্যতার প্রকৃত শক্তি।

আমাদের জাতিকে আজ সেই মদিনার আদর্শে ফিরতে হবে—যেখানে রাষ্ট্র হবে ন্যায়ভিত্তিক, প্রশাসন হবে আমানতের রক্ষক, আর জনগণ হবে দায়িত্বশীল।

এই সমাজে দান হবে স্বেচ্ছায়, ন্যায় হবে স্বাভাবিকভাবে, এবং ভালোবাসা হবে সমাজের মূল শক্তি।

৪. প্রযুক্তি ও রূহানিয়াতের সমন্বয়

ইসলামী সভ্যতা কখনো প্রযুক্তি-বিরোধী ছিল না। বরং মুসলিম বিজ্ঞানীরাই আধুনিক বিজ্ঞানের জনক।

কিন্তু তারা প্রযুক্তিকে উদ্দেশ্য নয়, বরং মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতেন।

আজ আমাদের দরকার সেই ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা।

প্রযুক্তি থাকবে, কিন্তু তা মানবকল্যাণে ব্যবহার হবে;

বিজ্ঞান থাকবে, কিন্তু তা আল্লাহর সৃষ্টি অনুধাবনে সহায়ক হবে;

অর্থনীতি থাকবে, কিন্তু তা হবে ন্যায়ভিত্তিক—যেখানে সুদ নয়, বরং অংশীদারিত্ব ও পরস্পরের কল্যাণ হবে ভিত্তি।

এভাবেই এক নতুন যুগের সূচনা হতে পারে—একটি আধ্যাত্মিক প্রযুক্তি-সভ্যতা, যেখানে রোবট কাজ করবে, কিন্তু মানুষ হারাবে না তার মনুষ্যত্ব। আমরা যদি সত্যিই এই পৃথিবীতে সংস্কার আনতে চাই, তবে আমাদের পুনর্জাগরণ শুরু হবে ভেতর থেকে—একটি রুহানী বিপ্লব দিয়ে।

ইসলামী সভ্যতার উত্তরসূরি হিসেবে আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন এক জাতি গড়া, যারা বিজ্ঞান, শিল্প, সাহিত্য, অর্থনীতি—সব ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেবে।

তাহলে আবারও এই বাংলার মাটিতে জেগে উঠবে সেই  সভ্যতা, একটি নতুন আত্মপরিচয়, একটি নতুন বাংলা—যেখানে আধুনিকতা ও ঈমান পাশাপাশি চলবে, যেমন সূর্য ও আলো আলাদা নয়, তেমনি ইসলাম ও প্রগতি-ও কখনো পরস্পরবিরোধী নয়।

Tagged

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *